Skip to main content

আবৃত্তি // তিন পাহাড়ের স্বপ্ন।

 


পাহাড়িয়া মধুপুর, মেঠো ধূলিপথ

দিনশেষে বৈকালি মিষ্টি শপথ ;
‘মোহনিয়া বন্ধু রে! আমি বালিকা
তোরই লাগি গান গাই, গাঁথি মালিকা।’

‘আজও সন্ধ্যার শেষে খালি বিছানা ;
আমি শোব, পাশে মোর কেউ শোবে না---
তুই ছাড়া এই দেহ কেউ ছোঁবে না।’ . . .

সুরে সুরে হাওয়া তার মিষ্টি বুলায় ;
সাঁওতাল মেয়ে-ক’টি দৃষ্টি ভুলায়

দিন শেষ---ধুধু মাঠ---ধুধু মেঠো পথ
সাঁওতাল মেয়ে ক’টি ছড়াল শপথ!
হাওয়ায় হাওয়ার মতো তাদের শপথ।
আবৃত্তি 



( ধীরে মাদল )
আয় মিতেনি, আজ রাতে
চাঁদকুড়ানো মাঝ রাতে
আবছা আলোর কান্নাতে
মখ রেখে তুই ঝরনা ধারে আয়
আয় জোয়ানের মন-জ্বালা
নাচ দিয়ে সই, গাঁথ মালা---
চুমুর গেলাস মদ ঢালা
দে ছুঁড়ে দে, তিন পাহাড়ের গায়ে।

( জোরে মাদল )
আহা মাদল, মাতাল মাদল বাজছে তোরই জন্যে লো!
খুশির হাওয়া, পাগলা হাওয়া গান দিল রাজকন্যে লো!
আয়, কাছে আয়, মন দে লো!



চোখ কেন তোর কাঁপছে মেয়ে
বুক কেন তোর দুলছে ?
গাল দুখানি লালচে, শরীর
সাপের মতোই ফুলছে ?
                কাকে মারবি ছোবল লো ?
                কোন্ ছেলে তোর কী করল।
মাদল ভেবে কেউ কি তোকে
আজকে বাজাল ?
ফুল দিয়ে নয়, ফাগ ছড়িয়ে
বিকেল সাজাল ?
                কেমন দিবি সাজা রে ?
                আর যাবি না পাহাড়ে!



এত গান আকাশে
এত গান বাতাসে।
                সাঁওতাল মেয়েটির টিপ কপালে
                ছেলেটি পেছন তবু নিল কী-বলে ?
                রাঙা ফুল মেয়েটির খোঁপায় জ্বলে
                ছেলেটি বাজাল বাঁশি তবু কী-বলে ?
এত মদ আকাশে
এত মদ বাতাসে।
                নেশা যেন ধরে যায় ছেলেটির বাঁশিতে
                মনে হয় দোষ নেই ভালোবাসা-বাসিতে
                তবে চাঁদ সরে যাও, যাও তা হলে . . .
                ‘ও ছেলে পেছন তুই নিলি কী-বলে ?’

                ‘পথ ভুলে গেছি মেয়ে খিলখিল হাসিতে
                শোন্ , কোনো দোষ নেই ভালোবাসা-বাসিতে।’
এত আলো আকাশে
এত আলো বাতাসে!





Comments

Popular posts from this blog

স্টোরি দ্যা দাজ্জাল ২য় পর্ব।

স্টোরি দ্যা দাজ্জাল। ____অরন্য হাসান দেলোয়ার।  আমেনা জ্ঞান ফিরবার পর নিজেকে একটি আশ্রয় কেন্দ্রের ভিতর আবিস্কার করে। আমেনাকে এক টুকরো রুটি আর পানি খেতে দেয়া হয়েছে। আমেনা সেগুলো খেয়ে একটু ভালো অনুভব করে। আমেনা আশ্রয় কেন্দ্রের একটি ছোট্ট চিকিৎসা কেন্দ্রের ভিতরে মাটির উপর একটুকরো চাদর বেছানো তার উপরে বসে আশেপাশে দেখছে তার মতো অসংখ্য শিশু এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে। কারো হাত নেই,কারো পা নেই।কারো শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত।কারো মাথায় আঘাত। চারদিকে শিশুদের কান্নার শব্দে আমেনার মন ভারী হয়ে উঠে। ক আমেনার পিছনের স্মৃতি মনে পড়ে-- বাবা মা ভাই বোন মিলে একটা সুখের পরিবার ছিলো তাদের। যদিও অভাব ছিলো,তারপরও সুখ ছিলো। প্রতিবেশী অনেকেই বিভিন্নভাবে ফিলিস্তিন ছেড়ে পাশের রাষ্ট্র গুলোতে যাবার চেষ্টা করতো,এবং অনেকে গিয়েছেও। সেইসব রাষ্ট্র থেকে তারা বিভিন্ন উপায়ে ইউরোপ কিংবা অন্য কোন উন্নত মুসলিম রাষ্ট্রে চলে যেতো। আমেনার বাবাকেও অনেকে বলেছে,সন্তানদের নিয়ে অন্যকোন রাষ্ট্রে চলে যেতে। ইউরোপ যেতে পারলে জীবন বদলে যাবে।এমন অনেক স্বপ্ন দেখাতো। এই মৃত্যুপুরি থেকে বের হবার কি আপ্রাণ চেষ্টা মানুষগুলোর। কিন্তু আমেনা...

ছোট গল্প : "না" ----সুর্বনা_শারমিন_নিশী

 "না" _____সুর্বনা_শারমিন_নিশী নিজের বিয়ের জন্য পাত্র দেখতে গিয়েছিলাম একটা রেস্টুরেন্টে। বুক দুরু দুরু করছে, ওটাই প্রথম একাকী কোন ছেলের সাথে নিজের বিয়ের জন্য আলাপচারিতা করা। আমার নিজস্ব কনফিডেন্সি কোন অভাব নেই কিন্তু তবুও বাসায় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকবার প্র্যাকটিস করেছিলাম। কিভাবে কথা শুরু করব, কি বলবো তা নিয়ে একটু নার্ভাস ছিলাম। আমার পরিবার, ছেলে আর ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলে এসেছে তাদের ভালো লেগেছে। অবশ্য ভালো না লাগার কোন কারণ নেই। ছেলে পেশায় একজন চিকিৎসক, পোস্ট গ্রাজুয়েশন করছিল, ছোট শিক্ষিত পরিবার, উচ্চতায় একটু খাটো অবশ্য এসব ব্যাপার নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। ছেলের পরিবার চুপিসারে আমাকে আমার কর্মস্থলে দেখে গেছে এবং পছন্দও হয়েছে তাদের। তাই সেদিনের সেই আয়োজন। দুবার অবশ্যই উনার সাথে ফোনে কথা হয়েছে আমার তবে সেটা স্বল্প সময়ের জন্য। সেদিন প্রথম দেখা, রেস্টুরেন্টে ঢুকে চিনতে ভুল হলো না। উনিও সহাস্যে উঠে দাঁড়ালেন। কিছুক্ষণ হাই হ্যালো এই ধরনের কথাবার্তা চললো। তারপর কথা চলে গেল একটু ভিন্ন দিকে যেমন আমি রান্না করতে পছন্দ করি কিনা কোন কোন র...

আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে কি আমেরিকা নিজেকে নিয়ে গেছে??ফেরাউন কি ফিরে এসেছে??

আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে কি আমেরিকা নিজেকে নিয়ে গেছে??ফেরাউন কি ফিরে এসেছে?? _____অরন্য হাসান দেলোয়ার।  আসুন বিশ্লেষণ করে দেখা যাক।  ইরাক থেকে শুরু করে সিরিয়া লিবিয়া আফগান ফিলিস্তিন সহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ আমেরিকার দ্বারা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে গেছে। এটা বাস্তব সত্য। আপনি যদি মুসলমানদের প্রশ্ন করেন যে,আমেরিকা কি মুসলমানদের বন্ধু না শত্রু? উত্তর পাবেন মিশ্র। কেউ শত্রু বলবে,কেউ বন্ধু বলবে,আবার অনেকে দুটোই বলবে। আরও পড়ুনপ: দাজ্জাল এবং লাল গরু ফিলিস্তিন স্বাধীনতা আন্দোলন কেন করছে? ফিলিস্তিন কি পরাধীন কোন রাষ্ট্র ছিলো? তাহলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রশ্ন কেন আসছে? ইহুদিরা ফিলিস্তিনে জোর জবরদস্তি প্রবেশ করেছে,ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে নিজেদের একটা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে,এর পিছনে বৃটিশ এবং রথ চাইল্ড ফ্যামিলি মূল ভূমিকা রেখেছিলো। এরপর বৃটিশরা ইহুদিদের দায়িত্ব আমেরিকার হাতে বুঝিয়ে দিয়ে নিজেরা কিছুটা দুরত্ব বজায় রেখে ইসরায়েলের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এইসব কিছু স্বচ্ছ আয়নার মতো পরিস্কার হবার পরও মধ্যপ্রাচ্যের সকল রাষ্ট্র বাস্তবিক কোন পদক্ষেপ নেয় নি।ফিলিস্তিনের পক্ষে জোড়ালো কোন পদক্ষে...