স্টোরি দ্যা দাজ্জাল।
____অরন্য হাসান দেলোয়ার।
আমেনা জ্ঞান ফিরবার পর নিজেকে একটি আশ্রয় কেন্দ্রের ভিতর আবিস্কার করে। আমেনাকে এক টুকরো রুটি আর পানি খেতে দেয়া হয়েছে। আমেনা সেগুলো খেয়ে একটু ভালো অনুভব করে।
আমেনা আশ্রয় কেন্দ্রের একটি ছোট্ট চিকিৎসা কেন্দ্রের ভিতরে মাটির উপর একটুকরো চাদর বেছানো তার উপরে বসে আশেপাশে দেখছে তার মতো অসংখ্য শিশু এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে। কারো হাত নেই,কারো পা নেই।কারো শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত।কারো মাথায় আঘাত। চারদিকে শিশুদের কান্নার শব্দে আমেনার মন ভারী হয়ে উঠে।
কআমেনার পিছনের স্মৃতি মনে পড়ে-- বাবা মা ভাই বোন মিলে একটা সুখের পরিবার ছিলো তাদের। যদিও অভাব ছিলো,তারপরও সুখ ছিলো। প্রতিবেশী অনেকেই বিভিন্নভাবে ফিলিস্তিন ছেড়ে পাশের রাষ্ট্র গুলোতে যাবার চেষ্টা করতো,এবং অনেকে গিয়েছেও। সেইসব রাষ্ট্র থেকে তারা বিভিন্ন উপায়ে ইউরোপ কিংবা অন্য কোন উন্নত মুসলিম রাষ্ট্রে চলে যেতো।
আমেনার বাবাকেও অনেকে বলেছে,সন্তানদের নিয়ে অন্যকোন রাষ্ট্রে চলে যেতে। ইউরোপ যেতে পারলে জীবন বদলে যাবে।এমন অনেক স্বপ্ন দেখাতো। এই মৃত্যুপুরি থেকে বের হবার কি আপ্রাণ চেষ্টা মানুষগুলোর। কিন্তু আমেনার বাবা একটা কথা বলতো,দাজ্জাল এইভাবেই ফিতনার বিস্তার করবে। মানুষকে বিভ্রান্ত করবে,যে তোমার দেশ তোমার রাষ্ট্র একটা জাহান্নাম।আর এই জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছে দাজ্জাল নিজেই। যাতে মানুষজন জাহান্নাম মনে করে নিজ দেশ ছেড়ে ইউরোপ আমেরিকায় পাড়ি জমায়।
কারণ বাস্তব দৃষ্টিতে ইউরোপ আমেরিকা জান্নাত মনে হয়। সেখানে কোন যুদ্ধ নেই। অভাব নেই। কোন রকম কোন অশান্তি নেই। স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের সেটা জান্নাতের মতো মনে হয়।আসলে সেটাই হলো জাহান্নাম। দাজ্জালের এই ফিতনা থেকে বেঁচে থাকা ভীষণ রকম কঠিন।
চোখের সামনে নিশ্চিত মৃত্যু। অভাব অনটন। এর মধ্যে থেকে নিজেকে সঠিক পথে রাখা অসম্ভব কঠিন। দাজ্জালের ফিতনা কত ভয়ংকর এমন পরিস্থিতিতে না পড়লে বোঝা যায় না।আমেনার বাবা আমেনার মাকে বলতো প্রতিবেশীদের কথায় বিভ্রান্ত হয়ো না। আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখো।আমাদের জন্য যা উত্তম তিনি সেটাই করবেন।
যদি আমাদের মৃত্যু এই ভূমিতে লেখা থাকে,সেটাই হবে।এই অভাব অনটন এগুলো আমাদের পরীক্ষা। আমরা কতক্ষণ সেই পরীক্ষায় টিকে থাকতে পারি। দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়ার এই পরিক্ষায় হার মানা যাবে না।
মা বলতো অনেকেই তো যাচ্ছে। আল্লাহ তো বলেছেন তুমি তোমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করো, আমি তোমাকে সাহায্য করবো।বাবা বলতেন,সেটা কি জাহান্নামে যাবার চেষ্টা? শোন দাজ্জাল তোমাকে জান্নাতের লোভ দেখাচ্ছে,এই জান্নাতে যাবার অর্থ হলো জাহান্নামে পতিত হওয়া।
আমেনা তার বাবার কথাগুলো মনে করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। যেন বুকের ভিতর থেকে অনেক যন্ত্রণা বের করে দিয়ে একটু শান্তি অনুভব করার মতো। আমেনা বিছানা ছেড়ে বের হতে যায়,একজন নার্সের মতো মেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলো-
কোথায় যাচ্ছো?
-কোথাও না।একটু খোলা আকাশটাকে দেখতে ইচ্ছে করছে।
- মেয়েটা আমেনার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো এখন রাত।বাইরে অন্ধকার। আকাশ দেখবে কি করে?
-- তবুও আমি একটু বাইরে যেতে চাই।
মেয়েটা আর বাঁধা দিলো না। আমেনা বাইরে বেরিয়ে দেখতে পেলো চারপাশে ছোট ছোট অনেক তাবু। অনেক লোক জনও দেখতে পেলো। আমেনা আকাশের দিকে তাকালো,আজ আকাশে চাঁদ নেই।কিছু তারা দেখা যাচ্ছে। আমেনা তার তাবুর পাশে থাকা ছোট্ট একটা টুলে বসে চারপাশের মানুষগুলোকে দেখছে।
কোথাও কোন পরিচিত মুখ চোখে পড়ছে না। আমেনা আকাশে তাকিয়ে আল্লাহর কাছে বলছে-- দাজ্জাল যখন তার সব শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে,তখন তোমার ইমাম মাহাদি কোথায়? কবে সে আসবে? মুক্ত করবে এই অসহায় মানুষগুলোকে?
আমেনার চোখে জল।এমন সময় সেই নার্স মেয়েটা আমেনাকে ভিতরে যেতে বললো। খাবার দিবে, খাবার খেয়ে যেন ঘুমিয়ে পড়ে। আমেনা এখনো অনেক দুর্বল। খুব বেশি হাটা চলা করা যাবে না।
চলবে....

Comments
Post a Comment