Skip to main content

ছোট গল্প : "না" ----সুর্বনা_শারমিন_নিশী


 "না"

_____সুর্বনা_শারমিন_নিশী

নিজের বিয়ের জন্য পাত্র দেখতে গিয়েছিলাম একটা রেস্টুরেন্টে। বুক দুরু দুরু করছে, ওটাই প্রথম একাকী কোন ছেলের সাথে নিজের বিয়ের জন্য আলাপচারিতা করা। আমার নিজস্ব কনফিডেন্সি কোন অভাব নেই কিন্তু তবুও বাসায় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকবার প্র্যাকটিস করেছিলাম। কিভাবে কথা শুরু করব, কি বলবো তা নিয়ে একটু নার্ভাস ছিলাম।


আমার পরিবার, ছেলে আর ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলে এসেছে তাদের ভালো লেগেছে। অবশ্য ভালো না লাগার কোন কারণ নেই। ছেলে পেশায় একজন চিকিৎসক, পোস্ট গ্রাজুয়েশন করছিল, ছোট শিক্ষিত পরিবার, উচ্চতায় একটু খাটো অবশ্য এসব ব্যাপার নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। ছেলের পরিবার চুপিসারে আমাকে আমার কর্মস্থলে দেখে গেছে এবং পছন্দও হয়েছে তাদের। তাই সেদিনের সেই আয়োজন।


দুবার অবশ্যই উনার সাথে ফোনে কথা হয়েছে আমার তবে সেটা স্বল্প সময়ের জন্য। সেদিন প্রথম দেখা, রেস্টুরেন্টে ঢুকে চিনতে ভুল হলো না। উনিও সহাস্যে উঠে দাঁড়ালেন। কিছুক্ষণ হাই হ্যালো এই ধরনের কথাবার্তা চললো। তারপর কথা চলে গেল একটু ভিন্ন দিকে যেমন আমি রান্না করতে পছন্দ করি কিনা কোন কোন রান্না ভালো জানি ঘর গোছাতে আমার কেমন লাগে এসব কথাবার্তা।


যদিও আমার কাছে ভীষণ হাস্যকর লাগছিল মান্ধাতার আমলের প্রশ্নগুলো শুনে কিন্তু এটুকু অস্বীকার করার উপায় নেই এখানে উনি ডাক্তার হিসেবে আসেননি উনি এসেছেন উনার জন্য একজন ভালো সহধর্মিনী পেতে, যে আগামীতে তার পরবর্তী পথ চলার সঙ্গী হবে। তাই আমি হাসিখুশি ভাবেই তার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম।


একটা বেশি অবশ্য অবাক লেগেছিল উনি পেশায় একজন ডাক্তার আর আমিও কাজেই আমাকেও প্রশ্ন করা উচিত ছিল আমি ভবিষ্যতে কি করতে চাই আমি কোন বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করতে চাই উনি অবশ্য এসব জানতে চাননি। তবে তখনকার মতো ছেলেটাকে ভালোই লাগলো আমার, তার চমৎকার বাচনভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করেছিল। আকারে ইঙ্গিতে বুঝতে পেরেছিলাম উনিও হয়তো আমাকে পছন্দ করেছেন। হালকা কিছু খাবার খেয়ে মোটামুটি ৪৫ মিনিট সময় আমরা রেস্টুরেন্টে কাটিয়ে যার যার বাড়ি ফিরে এলাম।


বাড়ি ফিরলাম এবং আমি "না" করে দিলাম একদম ঠিক বলেছি আমি "না" করে দিয়েছিলাম সেদিন।


পাত্র হিসেবে ছেলে আমার পছন্দ হয়েছিল। না করার কোন কারণ নেই, আমি কোন রাজকন্যা কিংবা পরী নই তবুও এত ভালো ছেলে কে আমি রিজেক্ট করেছিলাম। কারণটা অনেকের চোখে অত্যন্ত সামান্য। ওয়েটার যখন খাবারের অর্ডার নিতে এসেছিল উনি একবারও আমার কাছে জানতে চাননি আমি কি খেতে চাই, উনি উনার পছন্দমত খাবার সার্ভ করতে বলেছিলেন। আদৌ জানতে চাননি আমি ওই খাবার পছন্দ করি কিনা কিংবা খাই কিনা।


ভীষণ ছোট্ট একটা ব্যাপার তাই না? অনেকেই বলবে এতোটুকু কম্প্রোমাইজ করাই যায় কিন্তু সত্যি বলতে কি প্রথম দেখাতেই যে ছেলে আমার পছন্দের কোন মূল্যায়ন করলো না, সম্মতি নেবার প্রয়োজন বোধ করলো না, সে বিয়ের পরে আমাকে কতটুকু মূল্য দেবে কিংবা আমার পছন্দ অপছন্দের মূল্যায়ন টা ঠিক কিভাবে করবে সেটা আমি তৎক্ষণাৎ চোখের সামনে দেখতে পেয়েছিলাম।


যখন তার সাথে আমি জীবন কাটাবো তখন এই ছোট্ট ছোট্ট "না" করতে না পারার অনুভূতিটা এক সময় হাহাকারের রূপ নিবে। দিনশেষে হয়তো সেটা কিছুই না কিন্তু মাস শেষে বছর শেষে আর জীবন শেষে সেটা এক সমুদ্র অতৃপ্তির জন্ম দিয়ে স্রষ্টা প্রদত্ত আমার এই একটি মাত্র জীবনকে বিষাক্ত করে তুলবে।



Comments

Popular posts from this blog

পুণ্যের চাঁদ _____মহসিন আলম মুহিন।

  পুণ্যের চাঁদ _____মহসিন আলম মুহিন। শোন মুসলমান,এসেছে রমজান, উঠেছে পুণ্যের চাঁদ,কি সুন্দর আসমান।কবিতার নামঃ-পুণ্যের চাঁদ কবির নামঃ-মহসিন আলম মুহিন। শোন মুসলমান,এসেছে রমজান, উঠেছে পুণ্যের চাঁদ,কি সুন্দর আসমান। ঘুমন্ত আত্মারে জাগ্রত করার তরে, আলো হয়ে আল-হেলাল উঠেছে গগন জুড়ে। মুসলিম জাহানে এ যে জান্নাতের সন্ধান, দেখ্ চেয়ে দেখ্ ঐ আসমান।। আজ হতে সকল মুসলমান, মজবুত করো তোমাদের ঈমান, খোদার রাহে করো তোমার ইচ্ছাকে কোরবান, দেখ্ চেয়ে দেখ্ ঐ আসমান।। দিন গত হয়েছে রাত্রি এসেছে, মুয়াজ্জিন এশার আযান দিতেছে, করো না দেরী শুনে মধুর এ আহবান, তারাবীহ্ পড়তে মসজিদে লও স্থান, দেখ্ চেয়ে দেখ্ ঐ আসমান।। ভূলে যেওনা রেখো স্মরণ, কখনো হৃদয় হতে করো না গোপন, করতে হবে রোজার সাথে সাথে পালন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ফরমান, দেখ্ চেয়ে দেখ্ ঐ আসমান।। অর্ধ রাত্রিতে উঠে পর ঘুম হতে, তাহাজ্জুদ পড়ে সাহরী খেয়ে যাও সবে নিয়্যতে, ফরিয়াদ জানাও "হে রহমান"- রাখতে পারি যেন এই দিবসের মান,  দেখ্ চেয়ে দেখ্ ঐ আসমান।। ইফতার করতে যখন বান্দায়, কাতার করে একসাথে বস...

স্বপ্নের_ফেরীতে ___আজাদ রায়হান

স্বপ্নের_ফেরীতে ___আজাদ রায়হান  আমার মুখে আজকাল কোন  কথা আসে না, কেননা সময় এখন আমার সব গ্রহন শক্তি ছিনিয়ে নিয়েছে। তাইতো যাপিত জীবনের ঠুনকো আঘাত আমাকে আর কাঁপিয়ে তুলে না, মনটা করুণ হয়ে  উঠলেও ঠোঁটে থাকে হাসির ঝিলিক। যদিও মানুষ সব ব্যথা ভুলতে চায় না কেননা কিছু কষ্ট জীবনে সঞ্চয় ও শক্তি যা হারালে জীবনে সব হারিয়ে যায়, তবুও এতসব ভাবতে  বা স্বপ্ন দেখতেও ভালো লাগে না। যখন দেখি স্বপ্নের ফেরীতে সব বর্ণচোরা অচেনা যাত্রী, আমার স্বপ্নরা তখন  আপনিই বিদায় নেয় বৈরী বসন্তের মতো আমার ভাবনার বলাকারা তখন আমাকেই ঠুকরে ঠুকরে খায়  কাঠঠোকবার মতো তবুও প্রাণপনেে চেষ্টা করি অসম্ভবের মাঝে বাঁচবো বলে। Generated by Embed Youtube Video online