Skip to main content

ভুল মানুষের প্রেম ____অরন্য হাসান দেলোয়ার

 ভুল মানুষের প্রেম

____অরন্য হাসান দেলোয়ার 


একই শহরে আমাদের বাস,প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে বের হই আমরা,

তুমি অফিসে যাবে,অফিস শেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় সিগারেটের আগুনে পোড়াবে আত্মা

অথবা ডুবে যাবে কোন এক নারীর বাহুডোরে...


কখনো কখনো রাত শেষ করে ফিরবে বাড়ি

সকালে লেট করে অফিস যাবে।

সুন্দরী অফিস কলিগের সাথে লাঞ্চ অথবা ডিনার

কোন এক কফিশপে বসে তুমুল আড্ডার ঝড় তুলবে।


আমার বাড়ির গলি ধরে যাবে তুমি,

তোমার পাশে থাকবে তোমার নতুন প্রেম

হুড তোলা রিক্সার ফাঁক দিয়ে হয়তো তাকাবে 

আমার বাড়ির দিকে--

একসময় যে বাড়িতে তোমার নিয়মিত যাতায়াত ছিলো।

যে বাড়ির ছাদে আমার হাতে হাত রেখে কত বিকেল তুমি পার করে দিয়েছো 

কত সন্ধ্যা কেটেছে তোমার আমার চোখে তাকিয়ে।


আমি যন্ত্রণায় পুড়ে যাবো,কয়লা হয়ে যাবে আমার অবুজ মন---

চোখের জলে ভিঁজে যাবে আমার বিছানা বালিশ

ঘুমেরা হরতাল ডাকবে

বন্দী রুমে একাকিত্বের দহনে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাবে আমার সব।


অনেকগুলো বছর পর তুমি তোমার বউকে সাথে নিয়ে

ঘুরবে শহর জুড়ে

টিএসসি,চারুকলা,রমনা অথবা

হাতিরঝিল হয়ে গুলশান বনানি'র কোন এক কফিশপে

বসবে দুজন

আমি তখনও একা একটি মানুষ 

এই শহরের বুকে খুঁজে ফিরবো স্মৃতির আলনা

যেখানে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা আমার তোমার

স্মৃতির চাদর।


একই শহরে থাকি অথচ দেখা হয়না তোমার আমার

হয়তো আর কখনোই দেখা হবে না

কেমন করে চুমু খাও তুমি তোমার বউয়ের ঠোঁটে? 

কেমন করে জড়িয়ে ধরো তাকে?

কেমন করে আদর করো?

না এগুলোতে আমার কোন আগ্রহ নেই

আমি ভুলে যাবো একদিন তোমার সব স্পর্শ 

ভুলে যাবো তোমার সাজানো গুছানো সব কথা মালা

ভুলে যাবো আরো অনেক কিছু---

শুধু তোমার মুখখানা ভুলে যেতে পারবো না।


বৈশাখের সকালে আর কারো হাতে থাকবে না আমার হাত,

বসন্তে কেউ এসে খোপায় গুজে দিবে না কোন ফুল

শাড়ির আঁচল ধরে টানবে কোন হাত

পেছন থেকে চোখ আটকে ধরবে না কোন পুরুষ 

ঠোঁটে আলতো ছুঁয়ে চুমু খাবে না কোন ঠোঁট 

এমনও সময় আসবে আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারি না।

বিশ্বাস করো এখনো মনে হয় আমি ঘুমিয়ে আছি

চোখ খুললেই তোমাকে আমার পাশে পাবো।


মন কত বোকা... তুমি সেই কবে আমার হাত ছেড়ে

অন্য হাত ধরেছো

নীল দেয়ালের ঘর বেধেছো নতুন প্রিয়ার সাথে

যার বুকের গন্ধ শুঁকে তোমার রাত কাটে

যার ভেঁজা চুলের স্পর্শে তোমার ঘুম ভাঙ্গে

তুমি এখন ভীষণ ব্যস্ত এক স্বামী পুরুষ। 

প্রেমিক থেকে কবে তুমি স্বামী হয়ে গেছো

অথচ- আমি সেই প্রেমিকাই রয়ে গেলাম

বউ হওয়া আর হলো না,,,,

এখন তো প্রেমিকাও নই,রিক্ত সিক্ত একজনকে

কে ভালোবাসবে? কে আপন করে নিবে বলো?


আমি একাই থাকি,সাথে তোমার স্মৃতি 

ভুল মানুষের প্রেমে পড়া আমি ভুল মানুষের স্মৃতি বহন করে চলি।


©Aranna Hasan Delwar.

Generated by Embed Youtube Video online

Comments

Popular posts from this blog

একজন গাজা' শিশুর করুণ আর্তনাদ -- প্রিয় মুসলিম বিশ্ব।

  প্রিয় মুসলিম বিশ্ব, ____অরন্য হাসান দেলোয়ার।  প্রথমে সবার প্রতি আমার সালাম। আমার বয়স ৮ বছর। আমার পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে শুনে এসেছি, আর বিগত কয়েটি বছর ধরে নিজে দেখছি।আজ অনেকগুলো বছর আমরা নির্যাতিত। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আমাদের কাছ থেকে একটু একটু করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নিজ দেশে থেকেও আমরা আজ উদবাস্তু। না আছে নিরাপদ আশ্রয়, না আছে আমাদের খাবার,পানি। আজ কয়েক মাস যাবত আমাদের উপর চালানো হচ্ছে গনহত্যা। আমরা নির্বাসিত। পিতা মাতা ভাই বোন সবাইকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ। প্রতিদিন আমাদের উপর বোমা হামলা,গুলি চালানো হচ্ছে। ত্রাণ নিতেও এখন ভয় হয়। কতটা নির্মম নির্যাতন আর হত্যাযজ্ঞ চলছে আমাদের উপর চোখে না দেখলে বিশ্বাস করানো কঠিন হবে। আমাদের অপরাধ কি? আমরা ফিলিস্তিন?  আমরা মুসলিম?  এ পরিচয় কি আমাদের অপরাধ? আল্লাহর এই পৃথিবীর বুকে আমরা কি মানুষ হিসাবে একটু নিরাপদ জীবন চাইতে পারি না? যখন পুরো মুসলিম বিরোধী রাষ্ট্রগুলো একত্র হয়ে আমাদের উপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে,আমাদের ভূমি থেকে আমাদের বিতারিত করছে। তখন কি মুসলিম রাষ্ট্রগুলো একতাবদ্ধ হয়ে আমাদের পাশে দাঁড়াতে পারেন না? কেন? কিসের এতো...

কবিতা আবৃত্তি // তোমায় মনে পড়ে

  আবৃত্তি   তোমায় মনে পড়ে।  _____আবুল হোসেন সিরাজী।  মা গো আজ তোমায় মনে পড়ে, পরপারে চলে গেলে আমায় একা রেখে।  আজ চারিদিকে দিকে শূন্যতা,  মনের মাঝে একটুও শান্তি নেই।  আজ শুধু তোমার জন্য মনটা ছট ফট করে,  যে দিকে চোখ পড়ে শূন্যতা বিরাজ করছে।  তোমার মত সুমধুর কন্ঠে  কেউ আমাকে নাম ধরে  ডাকে না।  মা গো তোমার হাতের রান্না খেতে খুব মজা ছিলো,  এখন কোনো খাবার খেতে মন চাই না।  আজ আমি বুঝতে পারিতেছি,  মা হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দোয়ার ভান্ডার, মা হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার।  মা গো তুমি আমাকে  পারিবারিক শিক্ষা ধর্মীয় শিক্ষা দিয়েছ, সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত করিয়াছ। মা গো তোমার অবদানের কারণে,  আমি সমাজের মাঝে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছি।  মা গো তুমি আমার কাছে,  পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা। মা আমার মানিক রতন তুলনা নাই তাঁর,  মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দোয়া করতেন ছেলে টি তাঁর। ********* _____আবুল হোসেন সিরাজী।  আরও কবিতা : মানবতা ধ্বংস  মায়ার বাঁধন ছিন্ন হবে।