ষ্টোরি দ্যা দাজ্জাল
______ অরন্য হাসান দেলোয়ার
আমেনা'র যখন জ্ঞান ফিরছে তখন চারদিক নিরব নিস্তব্ধ। কোথাও কোন মানুষ নেই। চারদিক ধ্বংসস্তুপ।আর তার মাঝখানে লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
আমেনা উঠে দাঁড়াতে চাইলো।কিন্তু তার দুর্বল পা দুটো তার শরীরকে বহন করতে পারছে না। শরীরও দুর্বল। গত কয়েকদিন ধরে পেটে কিছু যায় নাই। যাবে কি করে?
যুদ্ধের ভিতরে খাবার আসবে কোথা থেকে। এখনো গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে বাতাসে। আমেনা অনেক কষ্ট করে উঠে দাঁড়ায়। চারদিক তাকিয়ে কাউকে খুঁজছে তার দু'চোখ। কিন্তু কোথাও কেউ নেই।
আমেনা আকাশের দিকে তাকিয়ে দিক নির্ণয় করে।তারপর হাঁটতে থাকে অচেনা এক জীবনের দিকে। কিছুক্ষণ আগে যার সব হারিয়ে গেছে। অনিশ্চিত এক ভবিষ্যৎ সামনে পরে আছে।
আমেনা একজন ফিলিস্তিনি মেয়ে। জন্মের পর যে দেখতে পেয়েছে শুধু মৃত্যু আর অসহায়ের আর্তনাদ। সেই দু:সহ জীবনের সাক্ষি যার প্রতিটি মূহুর্ত। নিজ ভূখণ্ডে যারা শরনার্থীর মতো জীবন যাপন করে আসছে।
বিগত কয়েক মাসে আমেনা হারিয়েছে মা,বাবা,ভাই বোন,আত্মীয় স্বজন সবাইকে। ১২ বছর বয়সের এক মেয়ে যে কিনা এই বয়সেই দেখেছে ফেলেছে এই জীবন আর পৃথিবীর চরম বাস্তব রুপ।
যখন তার স্কুলে যাবার সময়,খেলা করার সময় তখন তাকে পালিয়ে বেড়াতে হয় একস্থান থেকে আর এক স্থানে। কোথায় যে তার নির্দিষ্ট স্থান সে নিজেই জানে না।
আমেনার মতো শতশত শিশু জানে না তাদের আসলে কোথায় গেলে নিশ্চিন্তে একটু ঘুমাতে পারবে? একটুকরো রুটি পাবে। একটু পানি পাবে।
আমেনা হাঁটতে হাঁটতে একসময় একটি শরনার্থী ক্যাম্প দেখতে পায় অনেক দূরে। তার মনের ভিতর একটু আশা সঞ্চারিত হয়।কিন্তু তার পা দুটো আর তাকে বয়ে নিয়ে যেতে পারছে না। পিপাসায় বুক ফেটে যাচ্ছে।গলা শুকিয়ে শুকনো মরুভূমির মতো হয়ে আছে। আমেনা অনেকটা মনের জোরে নিজের পা দুটোকে নিয়ে হাঁটতে থাকে।
কিছুক্ষণ যাবার পর ধপাস করে পরে যায় আমেনা।পরে গিয়ে কান্না করতে থাকে। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে অনেকক্ষণ। মনে হচ্ছে আল্লাহর কাছে বলছে- আর কত যন্ত্রণা সইলে তুমি ফিরে তাকাবে? আর কত স্বজনের লাশ দেখলে তোমার রহমত ঝরবে?
একসময় আমেনা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আমেনা কি মরেই গেলো? না বেঁচে আছে?
চলবে।
©©©©©©©©©©©©™™™™™™™™™™™™

Comments
Post a Comment