Skip to main content

আধুনিক দাস ____অরন্য হাসান দেলোয়ার।

 আধুনিক দাস

____অরন্য হাসান দেলোয়ার। 


কবি বলেছিলেন,ঢাকা খুবই ছোট্ট শহর। কারো কষ্টের কথা এখানে চাপা থাকে না।

হয় কবি ভুল বলেছেন,নয়তো সময় সেটা ভুল প্রমাণিত করেছে।

এখন এই শহরের বুকে অধিকাংশ মানুষই কষ্ট নিয়েই থাকে।

অথচ,তাদের কাউকে দেখে মনেই হয় না তারা কষ্টে আছে।

পুরুষগুলো হাসি মুখে নিজেদের উন্নতির বয়ান করে যায় চায়ের আড্ডায় বা আত্মীয়ের কাছে।

নারীরা রঙ মেখে পরীর মতো সেঁজে গুজে সান্ধ্য পার্টিতে যায় কষ্ট বেঁচতে।


এই শহরে কে কাঁদে আর কে খুন হয়

তার কোন খবর এখন কেউ রাখে না...

তুমি যে খুনের খবর পাও তা কর্পোরেট বিজ্ঞাপন

টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয় 

কষ্ট তো বিক্রি করা যায় না তাই কর্পোরেট বিজনেস সেখানে ইনভেস্ট করে না।

কেউ ধর্ষিতা হলে তুমি যে প্রতিবাদ সভা দেখতে পাও

সেটার পিছনেও কর্পোরেট বিজনেস

আসলে সবাই এখন দাস

আধুনিক দাস প্রথার এক বিশাল সুবিধা হলো

এখানে তোমাকে দাস ক্রয় করতে টাকা খরচ করতে হয় না...

কোন একটি দল বা গ্রুপকে একটু উপরে তুলে দাও

কিছু দালাল বুদ্ধিজীবী আর সাংবাদিক ভাড়া করো

তারপর টক-শো নামক একটি নাটিকার রচনা করে

তা মানুষের মস্তিষ্কের খালি স্থানে প্রবেশ করিয়ে দাও

অসংখ্য দাসেরা লাইন ধরে তোমার প্রতিবাদ সভা,মিটিংয়ে হাজির হয়ে যাবে।


দাসদের কাজই হলো নিজেদের পিঠে চাবুক খাওয়া

এই শহরের দাসেরা পুলিশের মার খায়,

দালালের লাথি খায়

আর তাদের মালিকেরা চারদেয়ালের ভিতরে বসে

সাংবাদিকদের মাইক আর ক্যামেরার সামনে

তাদের কতজন দাস আজ আহত নিহত হয়েছেন

তার হিসাব দেন।

কি চমৎকার এক কর্পোরেট বিজনেস এই রাজনীতি। 

মার খায় দাস,মারা যায় দাস,আর ক্ষমতা ভোগ করে মালিক।

কি অদ্ভুদ এক দাস প্রথার প্রচলন চালু করে গেছেন পশ্চিমা বিশ্ব।

যার নাম দিয়েছেন গনতন্ত্র -

বাই দ্যা পিপলস, ফর দ্যা পিপলস,অফ দ্যা পিপলস

অথচ,দাস সমতুল্য মানুষ গুলো চিৎকার পারছে

দলে দলে ভিড় করে একত্রে বলছে-

গাজার গনহত্যা বন্ধ করো... যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার নামে অস্ত্র ব্যবসা বন্ধ করো

কে শুনছে কার কথা? কোথায় সেই গনতন্ত্র? 

যার সবটা জুড়ে দাস সমতুল্য মানুষের কথা বলা হয়েছে।

সবটাই ধোঁকা... রাজনীতি এক কর্পোরেট বিজনেস ছাড়া আর কিছুই না।


গনতন্ত্র একটি গুহা যার ভিতরে পড়ে মানুষেরা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়

গনতন্ত্র নতুন এক দাস প্রথার উদ্ভাবন করেছে

যার মূল চেতনা হলো-

মরবে জনগন,আহত হবে জনগণ,আর

মন্ত্রীদের সেবা করবে জনগন।

গনতন্ত্রের নামে বিনামূল্যে দাস বানিয়ে রাখা হয়েছে জনগন নামক প্রাণীগুলোকে

বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক নেতা সবাই এদের ব্যবহার করে

নিজেদের ব্যবসা চাঙা করে নেয়।

জনগন অদ্ভুত একটি প্রাণী--- যাদের নিজস্ব কোন মতামত নেই

নেতা,ধর্মীয় নেতা,বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক এদের কথায় এরা মাথা নাড়ায়, এদের কথায় এরা খায়,পড়ে।


Comments

Popular posts from this blog

বড় হাসির গল্পঃ- “বউ জব্দ”

  বড় হাসির গল্পঃ- “বউ জব্দ” করেছিলাম বাপু ভালবেসে বিয়ে, বউয়ের কতা শুনে মনে হবে এক আস্ত ডানা কাটা টিয়ে। সারাক্ষণ শুধু ঘ্যানার ঘ্যানার আর মশার মত প্যানার প্যানার। ওর আর দোষ কি বলুন, কথা তো দিয়েছিলাম আমিই, যে ওকে রাজরানী করে রাখব। বউকে আবার একটু শাসন করলেই বলে, যাব যেদিন বাপের বাড়ি, সব কাজ করবে তখন পরে বউয়ের শাড়ি।এটা কোন কতা হল কউন দিকি ভাই। এই বউয়ের অত্যাচারর থেকে ইংরেজদের অত্যাচার অনেক গুনে ভাল আসিল। এই তো সেদিন, বউ আমাকে কথায় কথায় কয়ে দিল, “যেমন বাপ তেমন ব্যাটা” আমিও বাপের ব্যাটা ছেড়ে কথা বলার পাত্র নই। কয়ে দিলাম, “তোর মা যেমন করে চাকরি, মেয়ে তেমনই জন্মেছে ফোকরি।“ অমনি ব্যস অমনি, শুরু হয়ে গেল অ্যাভেঞ্জার এন্ড গেম। যাকগে বাপু এবার মর্দা কতায় আসি। বউয়ের অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে আমি ঠিক করি দিন পনেরোর ছুটি কাটাতে শিমলা যাব, তাও আবার বউ কে না জানিয়ে। দেখুক, আমি ছাড়া কেমন মজা সংসারে।অফিসে গরমের ছুটি নিয়ে চলে গেলুম শিমলা। শিমলা তে ছুটি কাটাচ্ছি বিন্দাস। বউয়ের কোন অত্যাচার নেই। সাথে ফোন নিয়ে আসিনি, তাই কেউ খোঁজও নিতে পারছে না। আহা আহা কি মজা। স্বর্গ আর কোথায়, এই ...

পুণ্যের চাঁদ _____মহসিন আলম মুহিন।

  পুণ্যের চাঁদ _____মহসিন আলম মুহিন। শোন মুসলমান,এসেছে রমজান, উঠেছে পুণ্যের চাঁদ,কি সুন্দর আসমান।কবিতার নামঃ-পুণ্যের চাঁদ কবির নামঃ-মহসিন আলম মুহিন। শোন মুসলমান,এসেছে রমজান, উঠেছে পুণ্যের চাঁদ,কি সুন্দর আসমান। ঘুমন্ত আত্মারে জাগ্রত করার তরে, আলো হয়ে আল-হেলাল উঠেছে গগন জুড়ে। মুসলিম জাহানে এ যে জান্নাতের সন্ধান, দেখ্ চেয়ে দেখ্ ঐ আসমান।। আজ হতে সকল মুসলমান, মজবুত করো তোমাদের ঈমান, খোদার রাহে করো তোমার ইচ্ছাকে কোরবান, দেখ্ চেয়ে দেখ্ ঐ আসমান।। দিন গত হয়েছে রাত্রি এসেছে, মুয়াজ্জিন এশার আযান দিতেছে, করো না দেরী শুনে মধুর এ আহবান, তারাবীহ্ পড়তে মসজিদে লও স্থান, দেখ্ চেয়ে দেখ্ ঐ আসমান।। ভূলে যেওনা রেখো স্মরণ, কখনো হৃদয় হতে করো না গোপন, করতে হবে রোজার সাথে সাথে পালন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ফরমান, দেখ্ চেয়ে দেখ্ ঐ আসমান।। অর্ধ রাত্রিতে উঠে পর ঘুম হতে, তাহাজ্জুদ পড়ে সাহরী খেয়ে যাও সবে নিয়্যতে, ফরিয়াদ জানাও "হে রহমান"- রাখতে পারি যেন এই দিবসের মান,  দেখ্ চেয়ে দেখ্ ঐ আসমান।। ইফতার করতে যখন বান্দায়, কাতার করে একসাথে বস...

পার্থিব সুখ ----খায়রুজ্জামান চৌধূরী টিংকু।

    পার্থিব সুখ ----খায়রুজ্জামান চৌধূরী টিংকু।  পুরুষ সেদিন সমুদ্র থেকে নদী দেখা পেলো মুহু মুহু সৌরভে আমোদিত অঙ্গন বাতাসে শিশিরের গান ভোরের শিশিরে শিহরণ ধীরেধীরে বিকশিত হলো প্রাণ আঁধারে তারার আলো জোছনায় আলোকিত রাত।  জোছনার আলোয় শরীর তার ভাসল রূপালী নদীর জলে জীবন বেলায় দু'জনে দু'জনার সঙ্গ পেল ঘন কুয়াশায়,  পৃথিবীর জমিনে আঁকাবাঁকা পথরেখা দিগ্বিজয়ের ভরসায় শুধালো প্রাচ্যে থেকে প্রতিচ্য পারহলো সমান্তরাল গিরিপথ চেতনার দীপ্ত প্রত্যয়ে ফুলে ওঠে বুক ভ্রমণ এলো কবিতায় এলো কোনো এক ঝর্ণার ধারে অবশেষে সন্যাসীর বেশে।  বিশ্বাসের প্রয়োজন নরম নিঃশ্বাসের মতো প্রান্তেরের শেষে মোহনার প্রান্তে অশোক যে জন মাশুকের তান্ডব খেলা, প্রেমে আনে সুখ, ধরেও প্রেমের বিষক্রিয়ার আসুখ। ওহে ধরনী, বধুয়ার লাজুক কপিন গ্রহন কর তুমি চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে থাকুক তোমার বুকে অন্তকাল, ভালোবেসে শেষে বিরহী সাজলে শুধু তোমাকেই দেখি পেছন ফিরে তাকালে রাণী তুমি সাধক ভিখারি.....।  প্রেম নদীতে স্রোত যায় বয়ে  রূপ যেনো তোমার বয়ে যায় শতধারায় ভাগাভাগি হয়ে, পার্থিব সুখের নাম বিষন্ন উদভ্রান্তের শুণ্য গৃহের অসু...