বৈপরিত্য কাটেনি
___বেলায়েত হোসেন
একটা দীর্ঘ বৈপরীত্যের রাত
অপরিপাককৃত খাবারের মত
যা এখনো প্রাণ শক্তিতে হয়নি রূপান্তর
অথচ ঘোর অন্ধকারে এক অনন্য দৃষ্টি স্বপ্ন দেখে--
মায়াবী ঝর্ণার মত নদীর আঁকাবাকা গতিপথ
সাগরের ঢেউ হয়ে বিশালতায় মিশবে বলে।
ক্ষণ প্রতিক্ষণে জেগে উঠে চন্দ্রালোতে ভিজে যাওয়া
কোন বাউল সঙ্গীত সুর ----
জমে উঠে মোলায়েম শিশির
ঋষিদের দীর্ঘ ধ্যানের মত, তপ করছে পাহাড়
রাতজাগা প্রহরীর মত মেঘেরা এসে দাঁড়িয়ে যায়
এক অপরিমেয় আয়নিত বিদ্যুৎ জলের জমানো শক্তি নিয়ে।
নিশ্বাসের উষ্ণ স্পর্শ একে দেয় ভোরের তীর্যক আলো
দীর্ঘদিনের না দেখা নক্ষত্র আকাশের সীমানা ঘেষে
উঁকি দেয় দুষ্ট বালিকার মত ---
স্পর্শ দূরে থেকে যায় স্বপ্নে দেখা রাজকন্যার মোহময়ী রূপের জ্যোতি।
এক দীর্ঘ মহীরুহ বৃক্ষের তপস্যার ডালপালা ছড়িয়ে পরে বহুদূর
সেই ছায়ার মায়াতে যাদুমুগ্ধ হয়েছে অসংখ্য প্রেমিক যুগল
কিন্তু আমার বৈপরীত্য আজও কাটেনি
তোমাকে বশ মানাতে মানাতে-ই
কোটরে বাসা বেঁধেছে কাল নাগিনী সাপ।
🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺
আবডাল
___বেলায়েত হোসেন
তুমি ধ্যানহীন,জ্ঞানহীন বলেই সচেতন মিথ্যায় জড়িয়ে থাকে অন্তর
অথচ অনুসন্ধানের নেশায় সত্যরা বেড়িয়ে আসে অকাতরে মাছের পোনার মত
এক কৌমার্য ব্রতের ভান তোমাকে রমনী লোভাতুর করে তুলে
এক আভিজাত্যের ভান তোমার দেমাকি অহঙ্কারে- দারিদ্রতার চাদর পরিয়ে দেয়
এক মর্যাদার ভান তোমাকে চেয়ার শূন্য করে -
পবিত্রতার ভানে বার বার তুমি অপবিত্র হয়ে উঠো
তুমি ব্রহ্মচারীতার সঙ্কল্প সাধনে কতবার যে ভন্ড সাধু হয়েছো ---
অনেকটা না লেখা হিসাবের খাতার মত শূন্য পাতার ভাঁজে ভাঁজে যেভাবে জমে যায় ধুলো
লেবাজের আড়ালে কেবল এক অসহ প্রতিবিম্ব,
ছায়ার খেলার মত এক পূর্ণ রূপ চাঁদ কে রাখে ঢেকে
অথচ পরিশীলিত আচরণ আর চিন্তা,
নিত্য সকালের সূর্যের মত আলোর জোয়ারে উজ্জ্বল করে দিতে পারে পৃথিবীটা।
এতকিছুর পরেও আমরা রাতের অপেক্ষায় থাকি
পানশালা আর বেহায়া নর্তকী,স্বপ্নের ভিতরে খেলা করে,
আদিম উল্লাসের অন্তহীণ ঢেউ নাভিমূলে খুঁজে বেড়ায় পান পেয়ালার চিত্র।
🎆🎆🎆🎆🎆🎆🎆🎆🎆🎆🎆🎆🎆🎆🎆🎆🎆🎆

Comments
Post a Comment