কিছু কথা
____অমল ভট্টাচার্য
হ্যালো কে ? ও ,মা বলছ
বলো কেমন আছ ?
আমি ?
আমি তো ভীষণ ভালো আছি।
এত কষ্ট করে এত ভালো ঘরে বিয়ে দিলে
তা ভাল থাকব না?
আমি খুব ভাল আছি।
বিয়ের সময় ওজন ছিল সত্তর কেজি,
বিয়ের ছয় মাসেই ওজন হয়েছে ষাট,
এক বছর পরে এটা চল্লিশ হয়ে যাবে মনে হয়,
তখন তোমরা আর আমাকে মোটা বলতে পারবেনা।
কি বলছ ? কষ্ট ?
না না মা , কষ্ট একদম নেই,
তোমার শেখানো কথা মেনে চলি
ঐ যে তুমি শিখিয়েছিলে “মানিয়ে নিতে”,
আমি মানিয়ে নিচ্ছি মা,
আমার মন মানিয়ে নিচ্ছে,
আমার শরীরও মানিয়ে নিচ্ছে।
কখন রাত হয় আর রাত কেটে ভোর হয়
কিছুই বুঝে উঠতে পারিনা।
কি বলছ ? কাজের লোক ?
আরে না না আমি থাকতে আবার কাজের লোক লাগবে কেন ?
বিয়ের পনের দিনের মাথায় শাশুড়ী বলেছিলেন— তুই এখানে রানী হয়ে থাকবি,
সত্যিই আমি তাই আছি, শুধু রানীর আগে
চাক যোগ হয়েছে।
ঘর পরিষ্কার , রান্না বান্না, কাচাকাচি, শাশুড়ী শ্বশুরের দেখাশোনা, সময় করে তাদের ওষুধ দেওয়া, আত্মীয় স্বজন এলে তাদের আপ্যায়ন তারপর রাতে ঐ মা ভক্ত হনুমানের মানে ঐ তোমার জামাই এর সেবা,
ব্যস এসব নিয়েই কেটে যাচ্ছে ভালই।
কি বলছ ?
না না তুমি এরকম কেন ভাবছ ?
যাকে ভালবেসেছিলাম তাকে তোমরা সমাজের অজুহাতে অস্বীকার করলে,
আর তোমাদের কথায় আমি যাদের মেনে বা মানিয়ে নিতে চাইছি.
তাদেরকে আমার শরীর, আমার বোধ, আমার বিবেক আর যে মেনে নিতে পারছেনা মা।
চিন্তা করোনা মা, ভাল থেকো।
এখন রাখছি।
———————————————————
তুমি কি পারোনা
_____অমল ভট্টাচার্য
তুমি কি পারোনা,
ঠিক আগের মতো আমার কাছে আসতে ?
স্নান সেরে সেই এলোচুলে।
বসতে কি পারোনা একটু আগের মতো করে,
সাঁঝের বেলায় কাছাকাছি চায়ের পেয়ালা হাতে।
আগে , অনেক আগে,
তুমি বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোবাসতে,
নিজেও ভিজতে , আমাকেও ভেজাতে ।
সে সাধ তোমার হারিয়ে গেছে ,
তোমার আমার অজান্তে।
বিয়ের পরেও তোমার জন্মদিনে,
তুমি রঙ বেরঙের বেলুন খুঁজতে।
সংসারের নিষ্ঠুর যাপনে,
তোমার সেই বেলুনও হারিয়ে গেছে।
তুমি ভুলে গেছ
পুরুষের মন বুঝতে,
পুরুষের মন পড়তে,
ভালোবেসেছ শুধুই মাতৃত্ব নিয়ে বাঁচতে।
বলো না, মা হয়ে গেলে,
সব ইচ্ছা কি মিশে যায় সন্তানের ইচ্ছাতে ?
হয়তো তাই, আমি যে নই মাতা,
আসলে তুমি মা, তুমি নারী সংসার সন্তানের পরিত্রাতা।
—————————————————-

Comments
Post a Comment