Skip to main content

অশ্রুতে লেখা চিঠি __________মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

 

অশ্রুতে লেখা চিঠি

__________মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন


কিছু লিখবার ছিল অভিকের, 

যেহেতু সে নিশিকে এ কথা গুলো বলতে পারিনি কখনই। 

অভিক আজ বুঝতে পারছে হৃদয়ের টানাপড়েন বড়ই সাংঘাতিক। 

আজ বৃষ্টি পড়তে দেখে অভিকের ভেতরটাও অশান্ত হয়ে উঠে। অভিকের মনটা আজ  

ঝরে,বয়ে আর গলে যেতে চাইছে। 

ক্ষণ থেকে ক্ষণ খসেছে, অভিকের চুলের গোছায় জটা আর পাক ধরেছে, চশমা লাগে কিছু ঠাহর করতে।

 তাইতো অভিকের ভাব অনুভূতিও কিছুটা ধোঁয়াটে... আবছা, যেন কয়েকটা কাঁচের ভেতর থেকে চেয়ে উকি ঝুঁকি দিচ্ছি। 


কিছু লিখতে গেলেও তাই সব জট পাকিয়ে যায় অভিকের। অভিক আজ ভেবেছিলো বৃষ্টি বুঝি তাকে  সাহায্য করবে, হয়ত প্রতি রাতের মত একাকী কষ্ট পেতে হবে না আজ ।

অভিকের নিজেকে প্রশ্ন করে, 

তার অভাবটা কি এবং কোথায়? 

নিশির  ফেলে যাওয়া ব্যবহারই আট পোড়ে গন্ধে?

 না কি নিশির ফলে যাওয়া স্মৃতিতে? 


অভিক ভাবতে লাগলো দেয়ালে টাঙানো নিশির ছবিটা কত সত্যি মিথ্যার সাক্ষী হয়ে ঝুলে আছে।

আজ অভিকের মনে হচ্ছে  ছবিটা তোলা ভুল ছিল, কে জানতো ভবিষ্যৎ? 


শুধুই মিছে মিছি সব জীবন সাজাবার আয়োজন।


নিশি চলে গেলে সব কিছু যেন অন্ধকার হয়ে গেল অভিকের জীবনে , অভিক জীবনে দ্বিতীয় বার বাতি জ্বালতে পারিনি ভয়ে, পাছে নিশি সেই সে নগ্ন নিষ্ঠুর সত্যটা সহ্য করতে না পারো?

অভিকের জীবন তাও থেমে থাকেনি জীবনের স্রোতধারায়। প্লাবিতো, লবণাক্ত এমন কি ক্ষরাও এসে ছিল অভিকের জীবনে, অভিকে মন আবার কচি সবুজ হয়ে উঠতে চেয়েছিলো কিন্তু অভিক  হতে দেইনি, কারণ নিশি  ছাড়া আর কোন রং নেই অভিকের জীবনে।


অভিকের এক রাঙ্গা  জীবন শুধুই নিশিকেই সপেছিলো,তাই এ জীবনটা শুধু নিশির জন্যই  রইলো। 

হৃদয়ের চোরাবালিতে অভিক নিশিকে  কবর দিয়েছে। 

অভিক আজও মনে করে নিশি তার জীবনে সব সময় অমর,অক্ষয় থাকবে।

একদিন অভিক  বাগানে পায়চারি করছিলো, আর ভাবছিলো,নিশি কত পরম যত্নে কত কি লাগিয়েছিলে নিজ হাতে, 

আজ সে চারা গাছ গুলো বৃক্ষ। 

অথচ নিশি কোথায়?


অভিক ভাবলো সারা জীবন নিশি তাকে কেবল হৃদয়হীন ভালোবাসা দিয়েছিলো ,ভালোই করেছে নিশি!

অভিক ভাবে নিশি হয়ত  জানতো,তাই হয়ত নিশি তাকে  না জানিয়ে পালালো অভিকের কাছ থেকে। 


অভিক ভাবে এ পালানো থেকে হয়ত নিশি অনেক জবাবদিহি থেকে বেঁচে গেছে। 


অভিক নিশিকে  ভাল বাসতো, কিন্তু নিশি ভাবতো সব ছলনা, প্রতারণা। 

অভিক নিশিকে বুঝাতে পারবো না বলেই বুঝাতে চাইতো না, জোর করে কাউকে কিছু বুঝাতে যাওয়া বোকামি,এ কথাটা নিশির কাছ থেকে অভিক জেনেছিল। 


অভিকের  দিকে নিশি তাকাতেই অভিকের মন দুলে উঠতো ভাল লাগায়, শিহরন জাগতো অভিকের মনে। 


অভিক মাঝে মাঝে নিশিকে প্রশ্ন করত,

"কিছু খুঁজতে কি আমার মুখে?"

অভিক ভাবতে থাকে মাঝ রাতে, কাজের অবসরে দুষ্টুমিতে যখন নিশি জড়িয়ে ধরতো অভিককে,তখন কি এক বারও বিশ্বাস হতো না অভিককে ? 

এক বারও না? 


আজ অভিকের ভাবনা, অভিক খুব সাধারণ, সে কারণেই নিশি হয়ত তাকে ছেড়ে চলে গেছে । এ জন্যই কি নিশি হেরে গেলে, তাই আর ফিরলে না?

নিশি চলে যাবার পরে,অভিক যে  দিন নিশির চিঠি পেলো, ততো দিনে অভিকের  কষ্ট বোধটা মরে গিয়েছে।


আজ কোন কিছুই আর অভিকের মনে আঁচড় কাটে না, দাগ পড়ে না, পুরোনো ক্ষত গুলিও আর পোড়ায় না। 


নিশিকে উদ্দেশ্য করে অভিক বলে,এখন চাইলে ফিরতে পার, কথা দিলাম কিছুই জানতে চাইবো না জানি না জীবন আর কত কাঁদাবে? 

নিশির কাছে অভিকের শেষ চাওয়া, এসো না দুজনে মিলে কাঁদি আর চোখের পবিত্র অশ্রুতে লিখি আর একটা গল্প, না হয় একটা চিঠি...............।

Comments

Popular posts from this blog

বৈপরিত্য কাটেনি ___বেলায়েত হোসেন

  বৈপরিত্য কাটেনি         ___বেলায়েত হোসেন  একটা দীর্ঘ বৈপরীত্যের রাত    অপরিপাককৃত খাবারের মত যা এখনো প্রাণ শক্তিতে হয়নি রূপান্তর অথচ ঘোর অন্ধকারে এক অনন্য দৃষ্টি স্বপ্ন দেখে-- মায়াবী ঝর্ণার মত নদীর আঁকাবাকা গতিপথ সাগরের ঢেউ হয়ে বিশালতায় মিশবে বলে। ক্ষণ প্রতিক্ষণে জেগে উঠে চন্দ্রালোতে ভিজে যাওয়া  কোন বাউল সঙ্গীত সুর ---- জমে উঠে মোলায়েম শিশির  ঋষিদের দীর্ঘ ধ্যানের মত, তপ করছে পাহাড়  রাতজাগা প্রহরীর মত মেঘেরা এসে দাঁড়িয়ে যায়  এক অপরিমেয় আয়নিত বিদ্যুৎ জলের জমানো শক্তি নিয়ে।  নিশ্বাসের উষ্ণ স্পর্শ একে দেয় ভোরের তীর্যক আলো দীর্ঘদিনের না দেখা নক্ষত্র আকাশের সীমানা ঘেষে উঁকি দেয় দুষ্ট বালিকার মত --- স্পর্শ দূরে থেকে যায় স্বপ্নে দেখা রাজকন্যার মোহময়ী রূপের জ্যোতি।  এক দীর্ঘ মহীরুহ বৃক্ষের তপস্যার ডালপালা ছড়িয়ে পরে বহুদূর  সেই ছায়ার মায়াতে যাদুমুগ্ধ হয়েছে  অসংখ্য প্রেমিক যুগল কিন্তু আমার বৈপরীত্য আজও কাটেনি  তোমাকে বশ মানাতে মানাতে-ই কোটরে বাসা বেঁধেছে কাল নাগিনী সাপ। 🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺 আবড...

ফিরাবেনা হাত ___শওকত কামাল বাবুল

  ফিরাবেনা হাত ___শওকত কামাল বাবুল  তওবা করি নামাজ ধরি  পড়ি আল কোরান।  চাঁদ উঠেছে দেখ গগনে  এলো রমজান।  দ্বীনের পথে চলবো সবে  আমরা মুসলমান।  এই মাসেতে করবে ক্ষমা  আল্লাহ মেহেরবান।  হেলায় ফেলায় কাটবো না আর  বাকি জিন্দেগী।  রাখবো রোজা পড়বো নামাজ  করবো বন্দেগী।  শেষ দশেতে করবো তালাশ  শবেকদর রাত।  দয়ার সাগর আল্লাহ মহান  ফিরাবেনা হাত। 💢💢💢💢💢💢💢💢 আরও পড়ুন: শেষ বেলার প্রার্থনা : আগামীতে দিন: Generated by Embed Youtube Video online

মৃত্যু মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ

  আবৃত্তি ভিডিও  মৃত্যু   মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ দুনিয়ার মায়া ত‍্যাগ করে  যেদিন যাবো কবরে, কেউবা অনেক খুশি হবে, কেউবা হবে দুখী। কেউ বা হবে জ্ঞানশূন্য  কেউবা মহাপাপি, কেউবা করবে কান্নাকাটি  কেউবা করবে দোয়া। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে  সন্তান ছেলে-মেয়ে  সবচেয়ে বেশি কান্না করবে  প্রাণ প্রিয়তমা স্ত্রী। কেউবা অনেক আনন্দ করবে  সম্পদ দখল পাবে, পিতা মাতা কষ্ট পাবে  টাকার মেশিন গেল চলে। মৃত্যুকালেও হাসবো আমি  কাঁদবে পৃথিবী, আকাশ বাতাস কাঁদবে সবাই  হাসবে আমার অন্তর। আত্মার আত্মা রুহ আত্মা যাবে চলে আল্লাহর কাছে, জ্ঞানের বাণী থাকবে আমার  এই পৃথিবীর সবার মাঝে। জ্ঞান চর্চার সাধক ছিলাম  ছোটবেলা থেকেই  ছয় বছর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত  করেছি জ্ঞানের চর্চা। সন্তান আমার আল কুরআনের হাফেজ  মেয়েও আল কোরআনের হাফেজ স্ত্রী আমার আল্লাহ ওয়ালি আমার মৃত্যু হবে হাসিখুশি।