♦অশ্রুতে লেখা চিঠি ♦
__________মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
কিছু লিখবার ছিল অভিকের,
যেহেতু সে নিশিকে এ কথা গুলো বলতে পারিনি কখনই।
অভিক আজ বুঝতে পারছে হৃদয়ের টানাপড়েন বড়ই সাংঘাতিক।
আজ বৃষ্টি পড়তে দেখে অভিকের ভেতরটাও অশান্ত হয়ে উঠে। অভিকের মনটা আজ
ঝরে,বয়ে আর গলে যেতে চাইছে।
ক্ষণ থেকে ক্ষণ খসেছে, অভিকের চুলের গোছায় জটা আর পাক ধরেছে, চশমা লাগে কিছু ঠাহর করতে।
তাইতো অভিকের ভাব অনুভূতিও কিছুটা ধোঁয়াটে... আবছা, যেন কয়েকটা কাঁচের ভেতর থেকে চেয়ে উকি ঝুঁকি দিচ্ছি।
কিছু লিখতে গেলেও তাই সব জট পাকিয়ে যায় অভিকের। অভিক আজ ভেবেছিলো বৃষ্টি বুঝি তাকে সাহায্য করবে, হয়ত প্রতি রাতের মত একাকী কষ্ট পেতে হবে না আজ ।
অভিকের নিজেকে প্রশ্ন করে,
তার অভাবটা কি এবং কোথায়?
নিশির ফেলে যাওয়া ব্যবহারই আট পোড়ে গন্ধে?
না কি নিশির ফলে যাওয়া স্মৃতিতে?
অভিক ভাবতে লাগলো দেয়ালে টাঙানো নিশির ছবিটা কত সত্যি মিথ্যার সাক্ষী হয়ে ঝুলে আছে।
আজ অভিকের মনে হচ্ছে ছবিটা তোলা ভুল ছিল, কে জানতো ভবিষ্যৎ?
শুধুই মিছে মিছি সব জীবন সাজাবার আয়োজন।
নিশি চলে গেলে সব কিছু যেন অন্ধকার হয়ে গেল অভিকের জীবনে , অভিক জীবনে দ্বিতীয় বার বাতি জ্বালতে পারিনি ভয়ে, পাছে নিশি সেই সে নগ্ন নিষ্ঠুর সত্যটা সহ্য করতে না পারো?
অভিকের জীবন তাও থেমে থাকেনি জীবনের স্রোতধারায়। প্লাবিতো, লবণাক্ত এমন কি ক্ষরাও এসে ছিল অভিকের জীবনে, অভিকে মন আবার কচি সবুজ হয়ে উঠতে চেয়েছিলো কিন্তু অভিক হতে দেইনি, কারণ নিশি ছাড়া আর কোন রং নেই অভিকের জীবনে।
অভিকের এক রাঙ্গা জীবন শুধুই নিশিকেই সপেছিলো,তাই এ জীবনটা শুধু নিশির জন্যই রইলো।
হৃদয়ের চোরাবালিতে অভিক নিশিকে কবর দিয়েছে।
অভিক আজও মনে করে নিশি তার জীবনে সব সময় অমর,অক্ষয় থাকবে।
একদিন অভিক বাগানে পায়চারি করছিলো, আর ভাবছিলো,নিশি কত পরম যত্নে কত কি লাগিয়েছিলে নিজ হাতে,
আজ সে চারা গাছ গুলো বৃক্ষ।
অথচ নিশি কোথায়?
অভিক ভাবলো সারা জীবন নিশি তাকে কেবল হৃদয়হীন ভালোবাসা দিয়েছিলো ,ভালোই করেছে নিশি!
অভিক ভাবে নিশি হয়ত জানতো,তাই হয়ত নিশি তাকে না জানিয়ে পালালো অভিকের কাছ থেকে।
অভিক ভাবে এ পালানো থেকে হয়ত নিশি অনেক জবাবদিহি থেকে বেঁচে গেছে।
অভিক নিশিকে ভাল বাসতো, কিন্তু নিশি ভাবতো সব ছলনা, প্রতারণা।
অভিক নিশিকে বুঝাতে পারবো না বলেই বুঝাতে চাইতো না, জোর করে কাউকে কিছু বুঝাতে যাওয়া বোকামি,এ কথাটা নিশির কাছ থেকে অভিক জেনেছিল।
অভিকের দিকে নিশি তাকাতেই অভিকের মন দুলে উঠতো ভাল লাগায়, শিহরন জাগতো অভিকের মনে।
অভিক মাঝে মাঝে নিশিকে প্রশ্ন করত,
"কিছু খুঁজতে কি আমার মুখে?"
অভিক ভাবতে থাকে মাঝ রাতে, কাজের অবসরে দুষ্টুমিতে যখন নিশি জড়িয়ে ধরতো অভিককে,তখন কি এক বারও বিশ্বাস হতো না অভিককে ?
এক বারও না?
আজ অভিকের ভাবনা, অভিক খুব সাধারণ, সে কারণেই নিশি হয়ত তাকে ছেড়ে চলে গেছে । এ জন্যই কি নিশি হেরে গেলে, তাই আর ফিরলে না?
নিশি চলে যাবার পরে,অভিক যে দিন নিশির চিঠি পেলো, ততো দিনে অভিকের কষ্ট বোধটা মরে গিয়েছে।
আজ কোন কিছুই আর অভিকের মনে আঁচড় কাটে না, দাগ পড়ে না, পুরোনো ক্ষত গুলিও আর পোড়ায় না।
নিশিকে উদ্দেশ্য করে অভিক বলে,এখন চাইলে ফিরতে পার, কথা দিলাম কিছুই জানতে চাইবো না জানি না জীবন আর কত কাঁদাবে?
নিশির কাছে অভিকের শেষ চাওয়া, এসো না দুজনে মিলে কাঁদি আর চোখের পবিত্র অশ্রুতে লিখি আর একটা গল্প, না হয় একটা চিঠি...............।
.jpeg)
Comments
Post a Comment