Skip to main content

মিহু'র_মায়াবী_তুলি পর্বঃ_০২ _____খাদেমুল আলম

 
মিহু'র_মায়াবী_তুলি  পর্বঃ_০২ 

_____খাদেমুল আলম

--------------------------------

পনেরো- বিশ মিনিটের মধ্যে তৌহিদ আমার সামনে উপস্থিত হলো। সে আসতেই আমি দুইটা আঙ্গুল তার হাতের সামনে এগিয়ে নিয়ে বললাম,


- 'যেকোনো একটা তুল।'


- 'কোনটাতে কি?'


- 'একটাতে তুলি বিবাহিত, আরেকটাতে অবিবাহিত।'


- 'তুই এরকম বাচ্চাদের মতো আচরণ করছিস কেন?'


- 'শুনেছি প্রেমে পরলে মানুষ বাচ্চাদের মতো আচরণ করে, তাহলে আমি আবার তুলির প্রেমে পরেছি।'


সে কথা না বাড়িয়ে আমার একটা আঙ্গুল ধরে বললো,

- 'এখন খুশী?'


আমি বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তৌহিদের দিকে তাকিয়ে বললাম,

- 'তুলি কি তোকে বলছে সে বিবাহিত?'


- 'আমি তো তাকে কখনও দেখিইনি।'


- 'তাহলে বিবাহিত হওয়ার আঙ্গুল তুললি কেন? তোকে ডেকে এনেই আমি ভুল করেছি। তুই আমার সামনে থেকে চলে যা।'


- 'আরে রাগারাগি বাদ দে তো। তুলির সাথে কথা বলেছিস?'


- 'না।'


- 'এতদিন পর দেখা হলো বলে দিলি না কেনো? এখন যদি আবার হারিয়ে যায়।'


- 'আমার জন্য সে এখনও অপেক্ষা করে আছে কিনা সেটাই তো জানি না।অনেক দিন তো কেটে গেল এখন কি আর আমাকে মনে রেখেছে? শেষবার যখন তার মোবাইল নম্বরে ফোন করেছিলাম তখন তো তার বাবা বলেছিলেন, ‘তুলির বিয়ে হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যে।’ '


- 'আগের কথা সব ভুলে যা।খুঁজে যেহেতু পেয়েছিস এখন তো সত্যটা জানতেই পারবি।'


- 'সত্যটা জানার জন্যই তো ডেকে এনেছি।'


- 'আমাকে কি করতে হবে সেটা বল।'


- 'এখন সকাল এগারোটা বাজে।বিকাল চারটার আগে তোর মুখ থেকে তুলির সম্পর্কে সবকিছু জানতে চাই।'


- 'ঠিক আছে, চেষ্টা করে দেখি।তুই শুধু আমাকে তুলিকে চিনিয়ে দে। তোর সাথে দেখা হয়েছিল কোথায়?'


- 'শপিংমলে।কেনাকেটা করছিল তখন।'


- 'কি কি কিনেছে দেখেছিস?'


- 'ভালো করে খেয়াল করিনি।সেটা জানা তো খুব জরুরী না।'


- 'অবশ্যই জরুরী। শুধু কি নিজের জন্যই কেনাকাটা করেছে নাকি সাথে বাচ্চাকাচ্চাদের জন্যও কিছু কিনেছে।'


- 'আমার তো মনে হলো নিজের জন্যই কিনেছে।'


- 'তাহলে ধরে নিতে পারিস তুলির বিয়ে হয়নি।বিয়ে হলে এতদিনে বাচ্চাকাচ্চা হয়ে যেতো।আর বাচ্চাকাচ্চা হলে কোনো মেয়ে শুধু নিজের জন্য কেনাকাটা করে না।'


- 'তোর যুক্তিটা মানতে না পারলেও শুনে খুব ভালো লাগছে।'


- 'না মানার কি আছে? আমার বউ যখন মার্কেটে যায় তখন তো পিচ্চির জন্য কিছু হলেও নিয়ে আসে।আর যখন তার মনমেজাজ বেশি ভালো থাকে তখন আমার জন্যও শখ করে কিছু নিয়ে আসে।'


তৌহিদের কথা বলা শেষ না হতেই দেখলাম তুলি বাসা থেকে বের হচ্ছে।


আমি তৌহিদকে থামিয়ে বললাম,

- 'ঐ যে বাসা থেকে বের হচ্ছে এই মেয়েটাই তুলি। কিন্তু তার পরনে এটা কীসের ইউনিফর্ম?'


তৌহিদ তুলির দিকে তাকিয়ে বললো, 

- 'দেখে তো মনে হচ্ছে কোনো স্কুলের শিক্ষকদের হবে।'


- 'আমারও তাই মনে হচ্ছে।'


- 'তুই তো শিওর যে এই মেয়েটাই তুলি।'


আমি তৌহিদকে বললাম,

- 'হুম, চেহারা না দেখলেও কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলতে পারি এই মেয়েটাই তুলি।'


- 'তাহলে কি আমি এখন পিছু পিছু যাবো?'


- 'হ্যা, ভালোভাবে সব খবর নিবি।'


- 'তুইও চল আমার সাথে।আমাকে তো পরে আবার বিশ্বাস করবি না।'


- 'আজকের জন্য করবো।কোনো ভুল তথ্য নিয়ে আসবি না।'


এরপর তৌহিদকে ধাক্কা দিয়ে বললাম,

- 'দ্রুত যা, তুলি তো চলে যাচ্ছে।'


এরপর তৌহিদ তুলির পিছনে যেতে লাগলো।


আমি পিছন থেকে জোরে চিৎকার দিয়ে বললাম,

- 'খবর পাওয়া মাত্রই আমকে ফোন দিবি।'


বিকাল সাড়ে তিনটার মতো বাজে।আমি বাসার নিচে মফিজের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছি। চা পেটে যাচ্ছে না তবুও জোর করে গিলে চলেছি।


মফিজকে বললাম,

- 'কি চা বানিয়েছিস এটা? এতো তিতা কেন?'


মফিজ বললো,

- 'চায়ের কাপটা আমার কাছে দেন ভাইজান।একটু চিনি মিশাইয়া দেই।'


- 'চিনি দিয়ে মুখের রুচি ফেরানো যাবে না রে মফিজ।মনের মধ্যে কোনো রুচি নাই।'


- 'ঠিক কইছুন ভাইজান, মনে শান্তি না থাকলে কিচ্ছু ভালা লাগে না।মনের রুচিই আসল রুচি।'


মফিজের সাথে কথা বলার সময় হঠাৎ ফোন বেজে উঠলে হাতে নিয়ে দেখি তৌহিদের ফোন।


ফোন ধরেই জিজ্ঞেস করলাম,

- 'খবর কি?'


সে আমার কথার জবাব না দিয়ে বললো,

- 'তুই কোথায় আছিস?'


- 'আমি তো মফিজের চায়ের দোকানে।'


- 'তাহলে সেখানেই বসে থাক।আমি বাসা থেকে বাইকটা নিয়ে তোর কাছে এখনই আসছি।'


- 'তুলির কি বিয়ে হয়ে গেছে?'


এবারও আমার কথার জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দিলো।


কি এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছে বুকের ভেতরে বুজতে পারছি না।হার্টবিট খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।কোনো পরীক্ষার ফলাফল শোনার আগেও এমন অনুভূতি কাজ করেনি।


মফিজকে বললাম,

- 'আমাকে এক কাপ ঠান্ডা চা দে।শরীরটা একটু ঠান্ডা করি।'


মফিজ কোনো কথা না বলে তার পাশে থাকা কলসি থেকে ঠান্ডা পানি দিয়ে এক কাপ চা বানিয়ে আমাকে দিলো।


কিছুক্ষণ পর বাইক নিয়ে তৌহিদ আসলো।


এসেই বললো,

- 'মফিজ, কড়া কইরা এক কাপ চা বানাতো। আজকাল রাস্তাঘাটের যে অবস্থা, বাইক নিয়েও আসা যায় না।'


আমি আবারও বললাম,

- 'খবর কি?'


- 'অস্থির হচ্ছিস কেন? সব খবর এনেছি।চা খেতে খেতে বলছি।অস্থির হবার কোনো কারন নেই।'


এরপর তৌহিদ চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বললো,

- 'তোর জন্য আজকে অনেক গুলো মিথ্যা কথা বলেছি।এখন বল এই মিথ্যা বলার জন্য যে পাপ হয়েছে সেগুলোর অংশীদার কি তুই হবি?'


- 'যা, হলাম অংশীদার।এবার তো বল।'


- 'আমার কথা বলা শেষ হলে স্থির হয়ে বসে থাকতে হবে।কোনো নড়াচড়া করা যাবে না, আবেগী হওয়া যাবে না।'


- 'ঠিক আছে, রাজি।'


- 'তুই যে মেয়েটির কথা বলেছিলি তার নাম সত্যিই তুলি।'


- 'এটা তো আমি জানিই।'

- 'তবুও শিওর হয়ে নিলাম।আমি তো তোর মতো এতো বোকা না যে না দেখেই কাউকে বিশ্বাস করে ফেলবো।'


- 'কি কি জানতে পারলি সেগুলো বল।'


- 'প্রথমত তুলি পাশের এলাকার একটা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে। স্কুলে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত আছে।তুলি সেখানে ইংরেজি পাঠদান করায়।আমি তার স্কুলে গিয়েছিলাম।'


একটা ছাত্রকে তুলিকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

- 'তোমাদের এই ম্যাডামের নাম কি?'


সে বললো,

- 'তুলি ম্যাম।'


আমি তারপর জিজ্ঞেস করলাম,

- 'কি পড়ায়?'


সে বললো,

- 'ইংরেজি।'


তারপর চলে গেলাম প্রধান শিক্ষকের রুমে। সেখানে গিয়ে বললাম,

- 'আমার ছেলের জন্য ভালো একজন ইংরেজি ম্যাম দরকার যে বাসায় গিয়ে পড়াতে পারবে।'


আমি বললাম,

- 'তোর ছেলের তো মাত্র এক বছর।সে তো বাবা-মা কেই ভালো ভাবে ডাকতে পারে না।'


- 'আরে মিথ্যে বলেছি।তুলির মোবাইল নম্বর নেওয়ার জন্য এই কথা বলেছিলাম।'


তারপর স্যারকে বললাম,

- 'ম্যামের মোবাইল নম্বর টা একটু দিন তো, কথা বলে দেখি।'


উনি বললেন,

- 'ম্যাম তো এখানেই আসবে ক্লস শেষ করে।তখন সামনা-সামনি কথা বলে নিবেন।মনে হয় সে রাজি হবে না।'


আমি বললাম,

- 'রাজি হবে না কেন? উনি কি সংসার নিয়ে খুব ব্যস্ত?'


- 'তারপর উনি কি জবাব দিলেন জানিস?'


আমি ভয়ে ভয়ে 'না' সূচক মাথা নাড়ালাম।


তখন তৌহিদ বললো,

- 'স্যার বললেন, তুলির তো বিয়েই হয় নি।সে এই প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছর ধরে শিক্ষকতা করছে।'


আমি তখন তৌহিদকে বললাম,

- 'কেনো বিয়ে করেনি জিজ্ঞেস করিসনি?'


- 'না।'


তারপর সোজাসুজি তুলির সাথে কথা বললাম।


- 'কি কথা হলো?'


- 'বিশেষ ভাবে অনুরোধ করলাম, আমার ছেলেকে পড়াতেই হবে। অনেক জোড়াজুড়ির পর রাজি হলো। তারপর মোবাইল নম্বর নিয়ে চলে এসেছি। আর তোকে বিকাল চারটায় তুলির সাথে দেখা করতে হবে। তুলি তোর জন্য স্কুলে অপেক্ষা করছে।'


আমি বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললাম,

- 'আমার কথা বলেছিলি?'


- 'না। আমি বলেছি বিকাল চারটায় আমি আমার ছেলেকে নিয়ে আসবো।আপনাকে ফোন দিবো এসে।'


আমি মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিনটা পঞ্চান্ন বাজে।


এরপর তৌহিদের কাছ থেকে তুলির নম্বর নিয়ে বললাম,

- 'তোর বাইকের চাবি দে।'


সে আমার হাতে চাবি না দিয়ে বললো,

- 'দৌড় দিয়ে যা তাহলে ভালো ফিল পাবি।'


তৌহিদের কাছ থেকে জোড়াজুড়ি করে চাবি নিয়ে বাইকে উঠে পরলাম।


পেছন থেকে তৌহিদ বলছে,

- 'এই আমাকে নিয়ে যা, আমি যাবো কীভাবে?'


আমি বললাম,

- 'তুই বসে বসে চা খা।'


তবুও সে জোড়াজুড়ি করে বাইকের পিছনে বসে পরলো।


.


রাস্তায় বৃষ্টি পরা শুরু হয়ে গেলো।আমি ভাবতে লাগলাম, ‘বৃষ্টি তার কথা রেখেছে, তুলিও তাহলে নিশ্চয়ই রেখেছে।’


তুলির স্কুলের সামনে গিয়ে বাইক থেকে নেমে দেখি তুলি স্কুলের সামনে ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে আছে।


বৃষ্টি প্রবল বেগে পরছে।আমি একদম ভিজে গেছি। এখন ভাবছি, ‘সোজাসুজি কথা বলবো নাকি ফোনের মাধ্যমে বুঝতে পারছি না।’


আগে পকেট থেকে একটা পাঁচশো টাকার নোট বের করলাম।তারপর তুলির নম্বরে ফোন করলাম। সে রাস্তার ঐ পাশে আর আমি এই পাশে।তৌহিদ আমার থেকে দূরে সরে গেছে।সে একটা বিল্ডিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে যেন না ভিজে।


দেখলাম তুলি ফোনটা হাত থেকে কানে নিয়েছে।


ফোন ধরে বললো,

- 'কে বলছেন?'


আমি কীভাবে শুরু করবো বুঝতে পারছি না। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বললাম,


- 'আমি ‘মিহু’ , তোমার জন্য পাঁচশো টাকা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। তোমার স্কুলের সামনে তাকাও।'


দেখলাম তুলির হাত কাঁপছে। সে এদিক ওদিক তাকাতাকি করছে।


আমি বললাম,

- 'তোমার সোজাসুজি রাস্তার ঐ পাশে তাকাও। দেখো সাদা শার্ট পরে একটা ছেলে পাঁচশো টাকা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।'


তুলি এবার ছাতা সরিয়ে আমার দিকে তাকালো। তুলির চোখ দিয়ে তখন টপটপ করে পানি পরছে।আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সে কাঁদছে। বৃষ্টির পানি থেকে তুলি তার চোখের পানিকে আলাদা করতে পারেনি।


তুলির কান্না দেখে আমার চোখেও পানি চলে আসলো।কিন্তু আমার চোখের পানি দেখা যাচ্ছে না। আমি আস্তে আস্তে ছুটে চলেছি তুলির দিকে। কিন্তু তুলি হাঁটতে পারছে না।সে কাঁদতে কাঁদতে একদম বসে পরেছে।


আমি তার সামনে গিয়ে হাত বাড়িয়ে তাকে উঠতে সাহায্য করলাম। সে উঠে দাঁড়িয়েছে কিন্তু কোনো কথা বলছে না।


আমি বললাম,

- 'কেন হারিয়ে গিয়েছিলে?'


সে বললো,

- 'আমি হারাইনি। তুমি হারিয়ে গিয়েছিলি।তোমার মোবাইল নম্বরে কত ফোন দিয়েছি তুমি ধরোনি।'


- 'আমার ওই সিমটা আমার বন্ধু ভেঙ্গে ফেলেছিলো। আমি তো তোমার নম্বরে এখনও ফোন দেই। তোমার বাবা বলেছিল, তোমার বিয়ে হয়ে যাবে।কিন্তু আমার বিশ্বাস হয়নি।'


- 'বিয়ে হয়ে যেতো। সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছিলো।তোমার কথা বাসায় বলেছিলাম। কিন্তু কেউ মানে নি। তুমি তখন কিছুই করতে না।তাই কেউ তোমার কথা মেনে নেই নি।তারপর বিয়ে ঠিক করলো এক চাকরিজীবীর সাথে।পরিবারের সবার পছন্দ তাকে।কিন্তু আমি তো তোমাকে ভালোবেসে ফেলছিলাম। তারপর আমার ফোন নিয়ে নেয় বাবা।তখন কি করবো বুঝতে পারছিলাম না।


দুই বার ফ্যানের সাথে দড়ি ঝুলিয়েছিলাম কিন্তু নিজেকে শেষ করে দিতে পারি নি।তোমাকে না দেখে যে আমি মরেও শান্তি পেতাম না। তারপর বিয়ের আগের রাতে বাসা থেকে পালিয়ে আসি। কোথায় যাবো বুঝতে পারছিলাম না। একটা দোকানে গিয়ে তোমার নম্বরে ফোন দিয়ে দেখি ঢুকছে না।মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরলো তখন।


তারপর এক ফ্রেন্ডের বাসায় ছিলাম কিছুদিন। তারপর এই স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করি। প্রতিরাতেই তোমার নম্বরে ফোন দেই এখনো। কখনও আশাহত হইনি।জানতাম তুমি আসবে। তারপর তুমি এতগুলো দিন কীভাবে কাটালে?'


- 'তোমাকে ভালোবেসেই এতো গুলো দিন কাটিয়ে দিয়েছি।'


আমাদের কথার মাঝে তৌহিদ এসে বললো,

- 'এবার কান্নাকাটি থামা।'


আমি বললাম,

- 'কে কাঁদছে?"


- 'কে আবার? তোরা দুজনই। আমি সব কিছু মোবাইলে ভিডিও করে রেখেছি। প্রমান সহ দেখিয়ে দিতে পারবো।'


তুলি তৌহিদের দিকে তাকিয়ে বললো,

- 'আপনিই তো আজকে স্কুলে এসে আমার মোবাইল নম্বর নিয়েছিলেন। এই তাহলে আপনার বাচ্চা?'


- 'জি, এই সেই বাচ্চা।পছন্দ হয় নি?'


- 'পছন্দ তো অনেক আগেই করে রেখেছিলাম।এখন আবার খুঁজে পেয়েছি।আর হারাতে দিবো না। প্রয়োজনে জোর করে বেঁধে রাখবো।'

শেষ...

Comments

Popular posts from this blog

বৈপরিত্য কাটেনি ___বেলায়েত হোসেন

  বৈপরিত্য কাটেনি         ___বেলায়েত হোসেন  একটা দীর্ঘ বৈপরীত্যের রাত    অপরিপাককৃত খাবারের মত যা এখনো প্রাণ শক্তিতে হয়নি রূপান্তর অথচ ঘোর অন্ধকারে এক অনন্য দৃষ্টি স্বপ্ন দেখে-- মায়াবী ঝর্ণার মত নদীর আঁকাবাকা গতিপথ সাগরের ঢেউ হয়ে বিশালতায় মিশবে বলে। ক্ষণ প্রতিক্ষণে জেগে উঠে চন্দ্রালোতে ভিজে যাওয়া  কোন বাউল সঙ্গীত সুর ---- জমে উঠে মোলায়েম শিশির  ঋষিদের দীর্ঘ ধ্যানের মত, তপ করছে পাহাড়  রাতজাগা প্রহরীর মত মেঘেরা এসে দাঁড়িয়ে যায়  এক অপরিমেয় আয়নিত বিদ্যুৎ জলের জমানো শক্তি নিয়ে।  নিশ্বাসের উষ্ণ স্পর্শ একে দেয় ভোরের তীর্যক আলো দীর্ঘদিনের না দেখা নক্ষত্র আকাশের সীমানা ঘেষে উঁকি দেয় দুষ্ট বালিকার মত --- স্পর্শ দূরে থেকে যায় স্বপ্নে দেখা রাজকন্যার মোহময়ী রূপের জ্যোতি।  এক দীর্ঘ মহীরুহ বৃক্ষের তপস্যার ডালপালা ছড়িয়ে পরে বহুদূর  সেই ছায়ার মায়াতে যাদুমুগ্ধ হয়েছে  অসংখ্য প্রেমিক যুগল কিন্তু আমার বৈপরীত্য আজও কাটেনি  তোমাকে বশ মানাতে মানাতে-ই কোটরে বাসা বেঁধেছে কাল নাগিনী সাপ। 🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺 আবড...

ফিরাবেনা হাত ___শওকত কামাল বাবুল

  ফিরাবেনা হাত ___শওকত কামাল বাবুল  তওবা করি নামাজ ধরি  পড়ি আল কোরান।  চাঁদ উঠেছে দেখ গগনে  এলো রমজান।  দ্বীনের পথে চলবো সবে  আমরা মুসলমান।  এই মাসেতে করবে ক্ষমা  আল্লাহ মেহেরবান।  হেলায় ফেলায় কাটবো না আর  বাকি জিন্দেগী।  রাখবো রোজা পড়বো নামাজ  করবো বন্দেগী।  শেষ দশেতে করবো তালাশ  শবেকদর রাত।  দয়ার সাগর আল্লাহ মহান  ফিরাবেনা হাত। 💢💢💢💢💢💢💢💢 আরও পড়ুন: শেষ বেলার প্রার্থনা : আগামীতে দিন: Generated by Embed Youtube Video online

মৃত্যু মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ

  আবৃত্তি ভিডিও  মৃত্যু   মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ দুনিয়ার মায়া ত‍্যাগ করে  যেদিন যাবো কবরে, কেউবা অনেক খুশি হবে, কেউবা হবে দুখী। কেউ বা হবে জ্ঞানশূন্য  কেউবা মহাপাপি, কেউবা করবে কান্নাকাটি  কেউবা করবে দোয়া। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে  সন্তান ছেলে-মেয়ে  সবচেয়ে বেশি কান্না করবে  প্রাণ প্রিয়তমা স্ত্রী। কেউবা অনেক আনন্দ করবে  সম্পদ দখল পাবে, পিতা মাতা কষ্ট পাবে  টাকার মেশিন গেল চলে। মৃত্যুকালেও হাসবো আমি  কাঁদবে পৃথিবী, আকাশ বাতাস কাঁদবে সবাই  হাসবে আমার অন্তর। আত্মার আত্মা রুহ আত্মা যাবে চলে আল্লাহর কাছে, জ্ঞানের বাণী থাকবে আমার  এই পৃথিবীর সবার মাঝে। জ্ঞান চর্চার সাধক ছিলাম  ছোটবেলা থেকেই  ছয় বছর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত  করেছি জ্ঞানের চর্চা। সন্তান আমার আল কুরআনের হাফেজ  মেয়েও আল কোরআনের হাফেজ স্ত্রী আমার আল্লাহ ওয়ালি আমার মৃত্যু হবে হাসিখুশি।