"রত্নগর্ভা, শ্রেষ্ঠ মা, শ্রেষ্ঠ নারী"
____আসাদ বিন কাদের
আমার কাছে আমার মা দুনিয়ায় সেরা মা, শ্রেষ্ঠতম মা। এজন্য অন্য মানুষ বা সংগঠনের স্বীকৃতি নিতান্তই নিষ্প্রয়োজন এবং বিতর্কিত বিষয়। আমার মায়ের পক্ষে এই উক্তি আমি সন্তান হিসেবে গর্বের সাথে উচ্চারণ করি।
মা এর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে অসুস্থ কোনো প্রতিযোগিতা বা পুরস্কার আমি সন্তান হিসেবে মেনে নিতে পারি না। এতে আমার চোখে ও বুকে আমার মায়ের সম্মান ক্ষুন্ন হয়। জানি না, ওসবে অন্য মায়ের সম্মান বাড়ে কী না।
দিন এনে দিন খাওয়া পুরুষের স্ত্রী বা নারী গৃহকর্মী ইত্যাদি বা দেশের বা দুনিয়ায় সবচেয়ে আহার কষ্টে থাকা কোনো স্ত্রীও যখন মা হন, তাঁর এই জন্মদানকেও স্বয়ং আল্লাহই শ্রেষ্ঠত্বের উচ্চতর মর্যাদা দিয়েছেন। প্রসবকালীন কষ্ট, যন্ত্রণাকাতর জন্মদান এবং বিশেষ সময় পর্যন্ত অসীম ধৈর্যে সন্তানকে গড়ে তোলার জন্য তিনি মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত নির্দ্ধারণ করেছেন। তাঁর এ সিদ্ধান্তের উপরে গিয়ে মায়ের এই একক কৃতিত্বের ভালো মন্দকে শ্রেষ্ঠ অশ্রেষ্ঠ বা উনার চেয়ে তিনি শ্রেষ্ঠ বলা কি কারও জন্য যৌক্তিক?
পৃথিবীতে এত এত মানুষ। সবাইকে জন্ম দিয়েছেন "মা"। নারী এবং পুরুষ নির্বিশেষেই জন্ম দিয়েছেন মা। মায়ের ভালো সন্তানেরা ভালো এবং মন্দ সন্তানেরা দুনিয়াকে যথাক্রমে আলোকিত এবং কলঙ্কিত করেছে, করছে, করবে। এক্ষেত্রে মায়ের গর্ভ ধারণের বিষয় সংশ্লিষ্ট হলেও পরবর্তীতে প্রত্যক্ষ নয়।
সন্তান জন্মদানের পূর্ব পর্যন্ত গর্ভধারণকালীন সময়। মহান আল্লাহ এই মহা মানবিক এবং সীমাহীন যন্ত্রণাদয়ক দীর্ঘ কয়েকটি মাস অতিবাহিত করার সম্মান আর সহনশীলতা শুধুই মা জাতিকে দান করেছেন। এই বিবেচনায় সব গর্ভধারিণীই শ্রেষ্ঠ মা। সকল শ্রেষ্ঠ মা-ই শ্রেষ্ঠ নারী।
অবশ্যই গর্ভধারণ ব্যতীত অন্য যে কোনো শ্রেষ্ঠ কাজের জন্য নারী শ্রেষ্ঠ হতে পারেন। তাতে গর্ভধারণকারিণী মায়ের শ্রেষ্ঠত্ব বিন্দুমাত্র কমে যায় না।
আজকাল "রত্নগর্ভা" বেশ চলছে। মানুষ যদি সৃষ্টির সেরা জীব হয়, তবে যে কোনো স্ত্রী এবং একমাত্র স্ত্রীই যখন গর্ভে সন্তান ধারণ করেন, তখনই তো তিনি রত্নগর্ভার চেয়ে শতকোটিগুণ বড় কিছু হয়ে যান।
যদিও বাংলা অভিধানে গর্ভে অত্যন্ত গুণবান সন্তান ধারণকারিণীকে রত্নগর্ভা লেখা হয়েছে। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। রত্ন মানুষের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। রত্ন বড় কিছু নয়। মানুষই এ জগতের সবচেয়ে বড়।
সন্তান জন্ম নেয়ার পরে যত্নে গুণবান, অতি যত্নে অত্যন্ত গুণবান এবং অযত্নে গুণহীন, অতি অযত্নে অত্যন্ত গুণহীন হয়ে যায়। এতে কি মায়ের গর্ভধারণ এবং জন্মদানের ত্যাগের কোনো তারতম্য হয়? সন্তান ভালো হলে মা তাঁর সব কষ্ট ভুলে যান। খারাপ হলে ওই মায়ের চেয়ে দুখিনী কি আর কেউ হয়?
জন্মদানের পরে সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো, নিজের জীবন তুচ্ছ করে তাকে শিশু, কৈশোর, যৌবন পর্যন্ত লালন পালন করাতেই তো মায়ের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের আর কিছু বাকি থাকে না। নারী এবং পুরুষ জাতির মধ্যেও শুধু নারীরাই এই শ্রেষ্ঠত্বের অংশীদার।
যে কোনো নারীর অন্য কোনো গুণ বা গুণাবলি বড় করে দেখাতে গিয়ে কোনো নারীরই মা হওয়ার সূচনা থেকে মা হওয়া পর্যন্ত এবং সন্তানকে যথাসাধ্য প্রতিপালনের, শ্রেষ্ঠতম মমতাময়ী আত্নত্যাগ যেন কিঞ্চিৎ ছোট করে প্রকাশ হবার কারণ না হয়ে যায়, সেটুকুই বিশ্বের সকল মা এবং তাদের সন্তানদেরও প্রত্যাশা।

Comments
Post a Comment