শুয়োরের বাচ্চা সমাজে সর্বংসহা তত্ত্ব
____মিতালি দাস
ঘর পোড়ার জ্বালা মেটেনি
ভিখারির প্রণোদনা!
পোড়া মাংসের ক্ষত সারেনি
টোটকার জানাশোনা?
আমি একটা শুয়োরের বাচ্চা সমাজে বাস করি
শুয়োরের বাচ্চা? নাকি চ-বর্গীয়, ম-বর্গীয়!
আহ
আমায় কিছু জেন্ডার ফ্রি গালি শিখায়ে দাও কেউ!
আহ
আমায় কিছু প্রাণীউপমা মুক্ত গালি শিখায়ে দাও!
আহ
আমায় কিছু বর্ণাবাদের নাভিশ্বাস ভুলায়ে দাও কেউ!
আহ
চারপাশে পুরুষের বদলে কিছু মানু্ষ এনে দাও কেউ!
প্রিয় ধরণী,
কেমনে সর্বংসহা তুমি
এরা বারবার মিথ্যে বলতে বলতে
মিথ্যেকে সত্য বানিয়ে ফেলে।
সত্যকে না দেখতে দেখতে
সত্যকেও চিনতে পারে না সংশয়ে।
এক আঁজলা জলের বদলে
গোলাম বানিয়ে রাখতে চায়!
শ্রমে ঘামে শিল্প প্রেমে ফেরে
গৃহপালিত রাজনীতি,
তিন তলা গাঁথুনিতে বানায় দশতলা ইমারত
নীতির গতিতে বসে শুধুই আগুন শ্লোগান খেসারত !
আমি একটা ফুটন্ত কড়াইভাজা
মাঠের পর মাঠ বিছিয়ে রাখা উনুনে বাস করি।
তবুও বাঁচতে হবে,
তবুও লড়তে হবে,
তবুও সাজতে হবে,
তবুও জোগাতে হবে খাদ্য
তবুও শিশুর জন্য হাসি
তবুও বিরামহীন শ্বাসকষ্ট
তবুও সর্বংসহা পৃথিবী।
আবৃত্তিভীষণ ক্লান্ত, একঘেয়ে গলিতে
চায়ের দোকানে চাকা দেখি।
রিকশার চাকা, ভ্যানের চাকা, অটো টেম্পোর চাকা
সাইকেল, বাইক, প্রাইভেট কার, সিএনজি
আমার মাথার ভেতরে অবিরাম ঘুর্ণায়মান চাকা
অবিরাম ঘোরে, ঘোরে, ঘোরে, জো-ও-ও-রে
খালি মানিব্যাগ খুঁজে বের করে আনি
চায়ের বিল, মাথায় অর্থহীন নানা স্বত্ত্ব
চোখের মনি, স্বরধ্বনি, হৃদয়, যোনী
পাকস্থলী, বিষাদেক্ষরণ রক্ত!
প্রণতি জানাই, প্রমোদ গুনি
ধরণী জানাও আমায়
তোমার সর্বংসহা তত্ত্ব।


Comments
Post a Comment