স্বপ্নের ময়না তদন্ত
___ নন্দ কিশোর সাহা
বাসন্তী দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এসেছিল,
ক্লান্ত পায়ে হাঁটতে হাঁটতে নাগরিক জীবনে,
একদা ঘন অরণ্য ছিল জীর্ণ বসতির চারিদিকে,
বিচরণশীল ছিল ভয়াল জন্তু, বুনিয়াদী অরণ্যে নয়,
সভ্য সমাজে অন্দরেই, মাংসের গন্ধে কী মাতোয়ারা!
অবগুণ্ঠিত যৌবনের উপরে ওরা উল্লাসে মেতে ছিল।
এই ঝলমলে নগরেও বসবাস ছিল ওর,
জৌলুসময় জীবন ছিল বিবিধ বাহারী রঙের,
দৈবক্রমে বিক্ষত রক্তাক্ত বিবস্ত্র দেহে প্রাণ ছিল,
সর্বনাশের দ্বিতীয় পর্বটাও তখন ছিল অপেক্ষায়,
ধিক্কার দিয়ে রাতারাতি চলে আসার কী দরকার ছিল!
ঝলমলে আলোয়ও অন্ধকারের জীব থাকে ওত পেতে
ক্ষণিক বসন্ত এসেছিল বাসন্তীর,
চোখে লেগেছিল নেশা স্বপ্নের ঘর হয়েছিল,
ঘরনী হতে পারেনি, দমকা হাওয়ায় উড়ে গেছে,
পণ্য হয়ে বন্ধক রেখেছে কতো কামুক দৃষ্টির কাছে,
ঋণ আর শোধ হয়নি অধরা রয়ে গেছে কিশোরী স্বপ্ন।
এখন ভেসে যাচ্ছে শীতলক্ষ্যার স্রোতে,
উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হবে লাশকাটা ঘরে,
বিবস্ত্রতার শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে নীরবে, নির্দ্বিধায়,
স্পার্ম টেষ্ট হবে কাগজে খবর হবে সময়ের স্রোতে হয়,
এভাবে সব হয় কেবল স্বপ্নের কোন ময়না তদন্ত হয় না।
💢💢💢💢💢💢💢💢💢💢💢💢💢💢💢💢💢
আরও পড়ুন কবিতা:
🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷







Comments
Post a Comment