Skip to main content

ধারাবাহিক গল্প: বৃষ্টি বিলাসিনী ___আরোয়া জান্নাত নুহা

  

বৃষ্টি বিলাসিনী

___আরোয়া জান্নাত নুহা
পর্ব: ১

একরাশ অভিমান নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল বৃষ্টি নামের এক কিশোরী। হঠাৎ আকাশ থেকে ভেসে আসা গুরুগম্ভীর ডাক বৃষ্টির কর্ণগোচর হতেই মূহুর্তের মধ্যেই থমকে দাঁড়ায় সে।এ গুরুগম্ভীর ডাক যেন বৃষ্টি আসার ই পূর্বাভাস।

অতঃপর শুরু হলো বৃষ্টি। পড়ন্ত বিকেলের এই বৃষ্টি তে একটুখানি বৃষ্টি বিলাস‌ করলে নেহাৎ মন্দ হয় না। বৃষ্টি বিলাস করলে হয়তো বৃষ্টির হৃদয়ে জমে থাকা রাগ অভিমান হয়তো বা একটু হলেও কমবে। আজ মনের সব কষ্টগুলো ভাগাভাগি করবে ।

প্রায় আধঘন্টা মনের আনন্দে বৃষ্টি বিলাস করলো বৃষ্টি।

বৃষ্টিতে ভিজার কারনে বৃষ্টির গাঁ থরথর করে কাঁপছে ।

 সকাল -দুপুর না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে একরত্তি শক্তি পাচ্ছিল না বৃষ্টি। কেমন যেনো চারপাশের সবকিছু ঝাপসা ঝাপসা দেখতে লাগলো সে। এরপরেও 

মনে সাহস নিয়ে যেই এক পা বাড়ালো অমনি ধপাস করে পড়ে গেল ।  সবকিছু দেখছিলো একজোড়া চোখ।


  বৃষ্টির চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছিল। চোখের কাজল লেপ্টে গিয়েছে। সবমিলিয়ে বৃষ্টিকে দেখতে অসম্ভব মায়াবিনী লাগছিল। পলাশ মাহমুদ প্রথম দেখাতেই মায়াবিনীর মায়ায় পড়েছিল।

 

পলাশ মাহমুদ এক হাত এগিয়ে দিয়ে  বৃষ্টির উদ্দেশ্যে বলল,এই মেয়ে কে তুমি? রাস্তার মাঝখানে এমনভাবে বসে রয়েছে কেন?আর তোমার ঠোঁটের ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝড়ছে কেন??"(গম্ভীর কণ্ঠে)

বৃষ্টি আতকে উঠলো , ঠোঁটের মধ্যে হাত রাখতেই ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠলো ।শান্ত চোখে চেয়ে রইলো বৃষ্টি পলাশের পানে।"

পলাশ মাহমুদ বিরক্তি  নিয়ে বললো 'এই মেয়ে ড্যাব ড্যাব করে অমনভাবে তাকিয়ে আছো কেন?

ডাক্তারের কাছে যেতে হবে তাড়াতাড়ি ওঠো।

বৃষ্টি আর এক মুহূর্ত ও দেরি করলো না। পলাশ ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল।ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে তারা ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে আসলো।

পলাশ সামনে এগুতেই জিজ্ঞাসা করল কি নাম মেয়ে তোমার???"""

বৃষ্টি শান্ত ভাবেই উওর দিলো,,,,জি আমার নাম  বৃষ্টি দিবা।


পলাশ হো হো করে হেঁসে উঠল,,কি‌ দিবা গো?

দিবা নি একটু ভালোবাসা‌ । আমার শহরে ভালোবাসার বড্ড অভাব। (মজা করে বললো)

বৃষ্টি হা হয়ে তাকিয়ে রইল পলাশের মুখ পানে।সদ্য বেড়ে ওঠা ১৩ বছরের কিশোরী বৃষ্টি। ভালোবাসা মানে কি সে তা জানে না।


পলাশ বলতে লাগলো ওহে বালিকা তুমি কোন ক্লাসে পড়??""

বৃষ্টি মিনমিনিয়ে বলল আমি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি।


 কথা বলতে বলতে বৃষ্টিদের বাসার কাছে আসতেই বৃষ্টি বলে উঠলো আর এগুতে হবে না আমি যেতে পারবো।

বৃষ্টি চলে গেল,,,,,,


বৃষ্টির যাওয়ার পথে তাকিয়ে রইল পলাশ মাহমুদ 


চলবে...........

Comments

Popular posts from this blog

বৈপরিত্য কাটেনি ___বেলায়েত হোসেন

  বৈপরিত্য কাটেনি         ___বেলায়েত হোসেন  একটা দীর্ঘ বৈপরীত্যের রাত    অপরিপাককৃত খাবারের মত যা এখনো প্রাণ শক্তিতে হয়নি রূপান্তর অথচ ঘোর অন্ধকারে এক অনন্য দৃষ্টি স্বপ্ন দেখে-- মায়াবী ঝর্ণার মত নদীর আঁকাবাকা গতিপথ সাগরের ঢেউ হয়ে বিশালতায় মিশবে বলে। ক্ষণ প্রতিক্ষণে জেগে উঠে চন্দ্রালোতে ভিজে যাওয়া  কোন বাউল সঙ্গীত সুর ---- জমে উঠে মোলায়েম শিশির  ঋষিদের দীর্ঘ ধ্যানের মত, তপ করছে পাহাড়  রাতজাগা প্রহরীর মত মেঘেরা এসে দাঁড়িয়ে যায়  এক অপরিমেয় আয়নিত বিদ্যুৎ জলের জমানো শক্তি নিয়ে।  নিশ্বাসের উষ্ণ স্পর্শ একে দেয় ভোরের তীর্যক আলো দীর্ঘদিনের না দেখা নক্ষত্র আকাশের সীমানা ঘেষে উঁকি দেয় দুষ্ট বালিকার মত --- স্পর্শ দূরে থেকে যায় স্বপ্নে দেখা রাজকন্যার মোহময়ী রূপের জ্যোতি।  এক দীর্ঘ মহীরুহ বৃক্ষের তপস্যার ডালপালা ছড়িয়ে পরে বহুদূর  সেই ছায়ার মায়াতে যাদুমুগ্ধ হয়েছে  অসংখ্য প্রেমিক যুগল কিন্তু আমার বৈপরীত্য আজও কাটেনি  তোমাকে বশ মানাতে মানাতে-ই কোটরে বাসা বেঁধেছে কাল নাগিনী সাপ। 🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺 আবড...

ফিরাবেনা হাত ___শওকত কামাল বাবুল

  ফিরাবেনা হাত ___শওকত কামাল বাবুল  তওবা করি নামাজ ধরি  পড়ি আল কোরান।  চাঁদ উঠেছে দেখ গগনে  এলো রমজান।  দ্বীনের পথে চলবো সবে  আমরা মুসলমান।  এই মাসেতে করবে ক্ষমা  আল্লাহ মেহেরবান।  হেলায় ফেলায় কাটবো না আর  বাকি জিন্দেগী।  রাখবো রোজা পড়বো নামাজ  করবো বন্দেগী।  শেষ দশেতে করবো তালাশ  শবেকদর রাত।  দয়ার সাগর আল্লাহ মহান  ফিরাবেনা হাত। 💢💢💢💢💢💢💢💢 আরও পড়ুন: শেষ বেলার প্রার্থনা : আগামীতে দিন: Generated by Embed Youtube Video online

মৃত্যু মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ

  আবৃত্তি ভিডিও  মৃত্যু   মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ দুনিয়ার মায়া ত‍্যাগ করে  যেদিন যাবো কবরে, কেউবা অনেক খুশি হবে, কেউবা হবে দুখী। কেউ বা হবে জ্ঞানশূন্য  কেউবা মহাপাপি, কেউবা করবে কান্নাকাটি  কেউবা করবে দোয়া। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে  সন্তান ছেলে-মেয়ে  সবচেয়ে বেশি কান্না করবে  প্রাণ প্রিয়তমা স্ত্রী। কেউবা অনেক আনন্দ করবে  সম্পদ দখল পাবে, পিতা মাতা কষ্ট পাবে  টাকার মেশিন গেল চলে। মৃত্যুকালেও হাসবো আমি  কাঁদবে পৃথিবী, আকাশ বাতাস কাঁদবে সবাই  হাসবে আমার অন্তর। আত্মার আত্মা রুহ আত্মা যাবে চলে আল্লাহর কাছে, জ্ঞানের বাণী থাকবে আমার  এই পৃথিবীর সবার মাঝে। জ্ঞান চর্চার সাধক ছিলাম  ছোটবেলা থেকেই  ছয় বছর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত  করেছি জ্ঞানের চর্চা। সন্তান আমার আল কুরআনের হাফেজ  মেয়েও আল কোরআনের হাফেজ স্ত্রী আমার আল্লাহ ওয়ালি আমার মৃত্যু হবে হাসিখুশি।