Skip to main content

মিহু'র_মায়াবী_তুলি পর্বঃ_০১ ______খাদেমুল আলম

মিহু'র_মায়াবী_তুলি  পর্বঃ_০১

______খাদেমুল আলম

মার্কেট থেকে পাঞ্জাবী কিনে ফেরার সময় হঠাৎ একটা মেয়ের কণ্ঠ শুনে থমকে দাঁড়ালাম আমি। এই সেই মায়াবী কণ্ঠ নই তো! যে কণ্ঠের মায়ায় পাঁচ বছর আগে আমি নিজেকে বেঁধে ফেলেছিলাম।তারপর হঠাৎ এক অজানা ঝড়ে আবার হারিয়েও ফেলেছিলাম।


তখন ২০১৩ সাল ছিলো। বছরের শেষের দিকে কোনো এক রাতে অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে।ফোনটা ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে এক মায়াবী কণ্ঠ আমার কানে ভেসে উঠে,


- "আপনার মোবাইল নম্বরে ভুল করে পাঁচশো টাকা চলে গেছে। যদি টাকাটা আমার এই নম্বরে রিচার্জ করে পাঠিয়ে দিতেন তাহলে উপকৃত হতাম।"


আমি তখন বলেছিলাম, ‘দেখে জানাচ্ছি।’


এরপর ফোনের মেসেজ চেক করে দেখি আমার ফোনে আগে দশ টাকা ছিল এখন পাঁচশো দশ টাকা আছে। বুঝতে পারলাম সত্যিই ভুল করে আমার নম্বরে পাঁচশো টাকা চলে এসেছে।


তারমানে মেয়েটিকে আমার নিজের পকেট থেকে পাঁচশো টাকা দিতে হবে।কিন্তু আমার পকেটে তো এতো টাকা নেই।


মেয়েটির নম্বরে ফোন দিয়ে বললাম,

- 'আপনার পাঁচশো টাকা আমার আমানতে আছে।কিন্তু খুব লজ্জার সাথে জানাচ্ছি যে আমার হাতে এখন এত টাকা নেই।তাই আপনাকে টাকা রিচার্জ করতে পারছি না।হাতে টাকা হলে আপনার নম্বরে পাঠিয়ে দিবো।'


- 'আপনার যখন ইচ্ছে হয় তখন পাঠাবেন, আমার কোনো সমস্যা নেই।আপনার তো কোনো দোষ নেই, দোষ তো আমার আর দোকানদারের।দোকানদারকে বলেছিলাম শেষে ছয় হবে। কিন্তু দোকানদার ভুলে শেষে নয় লিখে টাকাটা পাঠিয়ে দিয়েছে।হয়তো আমার কথা সঠিকভাবে বুঝতে পারে নি।'


- 'আপনার মুখের ভাষা তো বেশ স্পষ্ট।আমার মনে হয় দোকানদারের কানে সমস্যা।'


.


এরপর কোনো কারন ছাড়াই সেই মায়াবী কণ্ঠ শুনার জন্য মেয়েটিকে ফোন দিতাম। ফোনে কথা বলে পাঁচশো টাকা শেষ করার মতো কোনো মানুষ আমার জীবনে তখন ছিলো না।তাই মেয়েটির সাথেই মাঝেমধ্যে কথা বলতাম।


এভাবে প্রতিনিয়ত কথা বলতে বলতে একসময় সেই পাঁচশো টাকা শেষ করে আরও কত শত টাকা যে ফুরিয়েছি তার হিসাব এখন আজানা। তখন আমরা দুজনেই বুঝে গিয়েছিলাম যে, ‘আমরা একজন আরেকজনকে সামনাসামনি না দেখলেও কণ্ঠের প্রেমে পরে গিয়েছি।’


.


মেয়েটির নাম ছিল তুলি।একবার বয়স জিজ্ঞেস করেছিলাম তখন বলেছিল,

- 'আপনার বয়স কত?'


আমি বলেছিলাম আমার বয়স তেইশ বছর। 

তখন সে বলেছিল,

- 'আমি আপনার থেকে কয়েক বছরের ছোট।'


কথা বলতে বলতে একসময় আমাদের একে অপরকে খুব কাছ থেকে দেখার তীব্র ইচ্ছা জাগলো। আমরা তখন চিন্তা ভাবনা করে রেখেছিলাম যে, ‘সামনের বছর বসন্তের কোনো এক শেষ বিকেলে আমরা সামনাসামনি মুখোমুখি হবো। আকাশ থাকবে খুব মেঘলা, যদি বৃষ্টি নেমে আসে তাহলে আরও ভালো হবে।’


তুলি বলেছিল, ‘আমার হাতে সেদিন অন্য কিছু না থাকলেও পাঁচশো টাকার একটা নোট যেন থাকে।’ কারণ এই পাঁচশো টাকার মাধ্যমেই আমাদের পরিচয় হয়েছিল। তাই প্রমান হিসেবে যেন সেই পাঁচশো টাকা সাথে নিয়ে যাই।


.


সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিলো কিন্তু বসন্ত আসার আগেই তুলির নম্বর থেকে ফোন আসা বন্ধ হয়ে গেল। দুইদিন ফোন দিয়েও পাওয়া গেল না। শেষমেশ তুলির বাবা ফোন ধরে বলেছিল, ‘এই নম্বরে আর কখনও যেন ফোন না দেই।তুলির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।’


কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম এই কথা শুনার পর।তুলি কি কখনও পারবে আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে।মনের বিরুদ্ধে গিয়ে হয়তো বিয়ে করে ফেলবে কিন্তু সুখী কোনদিনই হতে পারবে না। আমার কাছে তো তুলির মোবাইল নম্বর ছাড়া যোগাযোগ করার মতো আর কোনো ঠিকানা ছিল না।তাই কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না।


মনের জমানো কষ্টগুলো চেপে রাখতে না পেরে হলের রুমমেট তৌহিদ কে বললাম,


- 'আমি এক মায়াবতীর প্রেমে পরেছিলাম বন্ধু।এখন আবার তাকে হারাতেও চলেছি।'


- 'আমাকে সব কিছু খুলে বল তো।'


- 'সব কিছু শুনে কি করবি? সামনের সপ্তাহে তার বিয়ে।'


- 'মেয়ে কি বিয়েতে রাজি?'


- 'না।'

- 'বাসার ঠিকানা দে তাহলে। তুলে নিয়ে আসবো।'


- 'ঠিকানা জানি না।'


- 'কোনো ছবি আছে মেয়ের?'


- 'না।'


- 'মেয়েকে দেখেছিলি কোনো সময়?'


- 'হ্যা, সবসময়ই দেখি।ঘুমালে স্বপ্নেও দুষ্টামি করার জন্য চলে আসে।'


তারপর তৌহিদ ক্যানভাস নিয়ে বসে পরলো।সে খুব ভালো একজন আর্টিস্ট। আমাকে বললো, ‘মেয়েটির মুখের বর্ননা বল।আমি আঁকার চেষ্টা করি।’


আমি বলেছিলাম, ‘মেয়েটির দুটি চোখ আছে, দুই চোখের মাঝখান বরাবর একটু নিচে একটা নাক।তার নিচে আবার ঠোঁট। ঠোঁটের ভেতরে দুই চোয়াল বিশিষ্ট দাঁতও আছে।’


বন্ধু ছবি আঁকা ছেড়ে দিয়ে আমার দিকে হা করে তাকিয়ে রইলো।


কিছুক্ষণ পর আমাকে বলল,

- 'এই বর্ননা দিয়ে তো তোর মায়াবতীকে আলাদা করা যাবে না। এগুলো তো সব মানুষের-ই আছে। তুই যে সকল অঙ্গ গুলোর নাম বললি সেগুলো কেমন ছিল তার বর্ননা গুলো আমাকে দে। চোখ থেকে শুরু কর প্রথমে। চোখ গুলো কি টানাটানা ছিল নাকি গোল গোল?'


- 'কখনও গোলগোল আবার কখনও টানাটানা।'


- 'এ কেমন কথা? এগুলো কি কখনও পরিবর্তন হয় নাকি?

মেয়েটিকে প্রথম দেখেছিলি কোথায়?'


- 'কল্পনাতে।'


- 'বাস্তবে কোথায় দেখেছিলি?'


- 'বাস্তবে এখনও দেখা হয় নি।'


বন্ধু এবার নিরাশ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

- 'তুই যে পাগল হয়ে যাওয়ার পথে আছিস সেটা জানিস?'


- 'শুনেছি প্রেমে পরলে মানুষ পাগল হয়ে যায়।যদি সত্যিই তা হয় তাহলে বোধহয় আমি পাগলই হয়ে যাচ্ছি।'


- 'একটা মেয়েকে কোনোদিন সামনে থেকে দেখিস নি, মেয়ে দেখতে কেমন, থাকে কোথায় সেগুলোও জানিস না।তাহলে প্রেমে পরলি কি দেখে?'


তারপর বন্ধুকে সব কাহিনী খুলে বললাম।


সব কিছু বলার পর বন্ধুকে বললাম,

- 'এখন আমার কি করা উচিত, বলতো?'


সে সোজাসাপটা বলে দিলো,

- 'ভুলে যা।মানুষের জীবনে তো কত স্মৃতিই থাকে এটাও তোর জীবনে স্মৃতি হয়ে থাকবে। কিছুদিন পর দেখবি মেয়েটির কণ্ঠ আর তোর মনের মধ্যে থাকবে না।'


বন্ধুর কথা না শুনে আমি সব সময় তুলির নম্বরে কল দিতেই থাকতাম।যদি একটি বারের জন্য সেই কণ্ঠটা আবার শুনার সুযোগ হতো।


আমার এই অবস্থা দেখে একদিন বন্ধু আমার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে সেখান থেকে সিমটা বের করে তা চোখের সামনে ভেঙ্গে ফেললো।


এরপর আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

- 'আর কোনোদিন ঐ নম্বরে ফোন দিবি না।মেয়েটা যদি তোকে ভালোবাসতোই তাহলে একবার হলেও তোকে ফোন দিতো।আজকাল তো মানুষের সাথে সারাদিন ঘুরাঘুরি করেও দিন শেষে তার কাছ থেকেই প্রতারিত হতে হয়, আর তুই একটা মেয়েকে না দেখেই তাকে বিশ্বাস করে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছিস।


যদি ভাগ্যে থাকে তাহলে একদিন তোর সাথে দেখা হবেই।

এমনও হতে পারে যে তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে এখন তোকে এড়িয়ে চলতে চাচ্ছে, তুইও এড়িয়ে চলার চেষ্টা কর। সে হয়তো তোকে ভুলে নতুন জীবনে সুখী হতে চাচ্ছে।'


- 'এমনও তো হতে পারে পরিবারের চাপে বিয়েটা সে করে নিতে বাধ্য হচ্ছে।'


- 'এই সব আবেগের কথা বাদ দে তো। আমরা সবাই তো স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি কিন্তু সব স্বপ্ন কি সত্যি হয়?

এরপরেও মানুষ বাঁচতে শিখে, নতুন করে আবার স্বপ্ন দেখা শুরু করে।'


এরপর হলে থাকাকালীন তৌহিদের সামনে আর তুলির নম্বরে ফোন দিতাম না। কিন্তু প্রতিদিন একবার হলেও বাইরে গিয়ে নতুন সিম কিনে তুলির নম্বরে ফোন দিতাম।পকেটে সব সময় পাঁচশো টাকা রেখে দিতাম।যদি কোনোদিন দেখা হয়ে যায়।


.


ভার্সিটি জীবন শেষ বের হলাম।অনেক চেষ্টার পর মোটামুটি একটা চাকরি জোগাড় করেছি।তৌহিদও তার নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত।মাঝে মধ্যে ছুটি পেলেই দুজনে একসাথে আড্ডা দিতাম। এখন অবশ্য আগের মতো আড্ডা দেওয়া হয় না।তৌহিদ এখন বিয়ে করে নিয়েছে।সংসার জীবন তার খুব ভালো ভাবেই চলছে।


আমাকে মাঝেমধ্যেই জিজ্ঞেস করতো,

- 'তুই কি বিয়েসাদী কিছু করবি না?'


- 'সময় হোক।'


- 'তুই কি এখনও সেই মেয়ের জন্য বোকার মতো অপেক্ষা করে বসে আছিস?'


তখন আমার কোনো জবাব থাকতো না।নতুন কোনো কথা বলে সেই কথা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করতাম। বাসা থেকে বিয়ের কথা বললেও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতাম। আমার এখনও মনে হয় তুলি আমার জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে।আমাদের একদিন দেখা হবেই।


.


আজ কি তাহলে সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে।

এই কি সেই মায়াবী কণ্ঠ! কণ্ঠটা শুনার জন্য কাছাকাছি গেলাম।


তখন মেয়েটি দোকানদারকে বলছে,

- 'খয়েরি রঙের থ্রি-পিস টা দেখান তো।'


মেয়েটির মুখ থেকে এই কথা শুনার পর আমি একশো ভাগ নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে এই সেই কণ্ঠ। এখন আর কোনো সন্দেহ নেই।


পাঁচ বছরে একজন মানুষের চেহারা পরিবর্তন হতে পারে,কিন্তু কণ্ঠ পরিবর্তন হতে পারে না। আবার অন্য কারো কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়ে হুবুহু অন্য জনের কণ্ঠেও পরিণত হতে পারে না।


সময় নষ্ট না করে পকেট থেকে পাঁচশো টাকার নোট বের করলাম। প্রথমে ভাবেছিলাম সামনে গিয়ে বলে দেই, ‘আমি-ই সেই মিহু।’ কিন্তু সামনে যেতে খুব ভয় লাগছে। যদি সে বিবাহিত হয়, তাহলে তো সামনে যাওয়া ঠিক হবে না। আমাকে দেখলে হয়তো আরও কষ্ট পাবে।নিজেকে দোষী ভাবা শুরু করবে।


দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকায় দোকানদার আমাকে জিজ্ঞেস করলো,

- 'আপনার কি লাগবে স্যার?'


আমি কোনো কথা বললাম না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম।কথা বললেই তুলি আমার কণ্ঠ চিনে ফেলবে। তাই দোকান থেকে বেরিয়ে গেলাম।


কিছুক্ষণ পর তুলিও বেরিয়ে গেল দোকান থেকে।আমি তার পিছু পিছু হাঁটতে লাগলাম। তার বাসা পর্যন্ত পিছু পিছু গেলাম। আসার সময় বাসার ঠিকানা নিয়ে আসলাম।


তুলি বাসায় ঢুকে পরার পর সাথে সাথেই আমি তৌহিদেকে ফোন দিয়ে বললাম,

- 'বন্ধু তাড়াতাড়ি আমার কাছে চলে আয়।'


সে আমাকে জবাব দিলো,

- 'আমি ব্যবসার কাজে ব্যস্ত। পরে ফোন দিচ্ছি তোকে।'


- 'তোর ব্যবসা থেকে যদি আমার জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করিস তাহলে চলে আয়।'


- 'কি হয়েছে তোর? কাহিনী বল!'


- 'আজকে তুলিকে খুঁজে পেয়েছি।'


আমার কথা শুনে সে বললো,

- 'তুই কি আবার পাগল হয়ে যাচ্ছিস।'


- 'এসেই দেখ।আমার তো মনে হচ্ছে সুস্থ।'


- 'তুলিকে তো তুই কোনো দিন দেখিস নি।তাহলে খুঁজে পেলি কেমনে?'


- 'তার কণ্ঠ শুনেছি।'


- 'সামনা-সামনি?'


- 'হুম।'


আমার কথায় আগ্রহ প্রকাশ করে সে বললো,

- 'তুই কোথায় আছিস বল আমাকে, এখনই আসছি।

ক্যানভাস নিয়ে আসছি, অনেক দিন ধরে ছবি আঁকা হয় না। আজকে আঁকবো মনের মাধুরী মিশিয়ে।'


- 'আমি তার চোখ ছাড়া কিছুই দেখিনি।বোরখা পরা ছিল, মুখে ছিল হিজাব। তবে ওর বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করেছি।'


- 'তুই অপেক্ষা কর, আমি কাজটা শেষ করেই আসছি।'


- 'কাজ পরে করা যাবে, তুই এখনই আয়।'


- 'এতদিন অপেক্ষা করতে পারলি, এখন কিছু মুহূর্ত অপেক্ষা করতে পারবি না?'


আমি সোজাসুজি তার মুখের ওপর বলে দিলাম,

- 'না, পারবো না। কিছুক্ষনের মধ্যে না আসলে তোর সাথে আর কথা বলবো না।'


পনেরো- বিশ মিনিটের মধ্যে তৌহিদ আমার সামনে উপস্থিত হলো। সে আসতেই আমি.....


(চলবে)...


Comments

Popular posts from this blog

বৈপরিত্য কাটেনি ___বেলায়েত হোসেন

  বৈপরিত্য কাটেনি         ___বেলায়েত হোসেন  একটা দীর্ঘ বৈপরীত্যের রাত    অপরিপাককৃত খাবারের মত যা এখনো প্রাণ শক্তিতে হয়নি রূপান্তর অথচ ঘোর অন্ধকারে এক অনন্য দৃষ্টি স্বপ্ন দেখে-- মায়াবী ঝর্ণার মত নদীর আঁকাবাকা গতিপথ সাগরের ঢেউ হয়ে বিশালতায় মিশবে বলে। ক্ষণ প্রতিক্ষণে জেগে উঠে চন্দ্রালোতে ভিজে যাওয়া  কোন বাউল সঙ্গীত সুর ---- জমে উঠে মোলায়েম শিশির  ঋষিদের দীর্ঘ ধ্যানের মত, তপ করছে পাহাড়  রাতজাগা প্রহরীর মত মেঘেরা এসে দাঁড়িয়ে যায়  এক অপরিমেয় আয়নিত বিদ্যুৎ জলের জমানো শক্তি নিয়ে।  নিশ্বাসের উষ্ণ স্পর্শ একে দেয় ভোরের তীর্যক আলো দীর্ঘদিনের না দেখা নক্ষত্র আকাশের সীমানা ঘেষে উঁকি দেয় দুষ্ট বালিকার মত --- স্পর্শ দূরে থেকে যায় স্বপ্নে দেখা রাজকন্যার মোহময়ী রূপের জ্যোতি।  এক দীর্ঘ মহীরুহ বৃক্ষের তপস্যার ডালপালা ছড়িয়ে পরে বহুদূর  সেই ছায়ার মায়াতে যাদুমুগ্ধ হয়েছে  অসংখ্য প্রেমিক যুগল কিন্তু আমার বৈপরীত্য আজও কাটেনি  তোমাকে বশ মানাতে মানাতে-ই কোটরে বাসা বেঁধেছে কাল নাগিনী সাপ। 🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺 আবড...

ফিরাবেনা হাত ___শওকত কামাল বাবুল

  ফিরাবেনা হাত ___শওকত কামাল বাবুল  তওবা করি নামাজ ধরি  পড়ি আল কোরান।  চাঁদ উঠেছে দেখ গগনে  এলো রমজান।  দ্বীনের পথে চলবো সবে  আমরা মুসলমান।  এই মাসেতে করবে ক্ষমা  আল্লাহ মেহেরবান।  হেলায় ফেলায় কাটবো না আর  বাকি জিন্দেগী।  রাখবো রোজা পড়বো নামাজ  করবো বন্দেগী।  শেষ দশেতে করবো তালাশ  শবেকদর রাত।  দয়ার সাগর আল্লাহ মহান  ফিরাবেনা হাত। 💢💢💢💢💢💢💢💢 আরও পড়ুন: শেষ বেলার প্রার্থনা : আগামীতে দিন: Generated by Embed Youtube Video online

মৃত্যু মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ

  আবৃত্তি ভিডিও  মৃত্যু   মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ দুনিয়ার মায়া ত‍্যাগ করে  যেদিন যাবো কবরে, কেউবা অনেক খুশি হবে, কেউবা হবে দুখী। কেউ বা হবে জ্ঞানশূন্য  কেউবা মহাপাপি, কেউবা করবে কান্নাকাটি  কেউবা করবে দোয়া। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে  সন্তান ছেলে-মেয়ে  সবচেয়ে বেশি কান্না করবে  প্রাণ প্রিয়তমা স্ত্রী। কেউবা অনেক আনন্দ করবে  সম্পদ দখল পাবে, পিতা মাতা কষ্ট পাবে  টাকার মেশিন গেল চলে। মৃত্যুকালেও হাসবো আমি  কাঁদবে পৃথিবী, আকাশ বাতাস কাঁদবে সবাই  হাসবে আমার অন্তর। আত্মার আত্মা রুহ আত্মা যাবে চলে আল্লাহর কাছে, জ্ঞানের বাণী থাকবে আমার  এই পৃথিবীর সবার মাঝে। জ্ঞান চর্চার সাধক ছিলাম  ছোটবেলা থেকেই  ছয় বছর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত  করেছি জ্ঞানের চর্চা। সন্তান আমার আল কুরআনের হাফেজ  মেয়েও আল কোরআনের হাফেজ স্ত্রী আমার আল্লাহ ওয়ালি আমার মৃত্যু হবে হাসিখুশি।